বছরের এই ১০ মুহূর্ত মনে রাখবে ক্রিকেট

সঞ্জয় পার্থ
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬
   ২০১৬ সালের স্বরণীয় ১০ মুহূর্ত   ২০১৬ সালের স্বরণীয় ১০ মুহূর্ত

সবাইকে বিস্মিত করে বাংলাদেশের এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে এক রানে হার, দিলশান-ম্যাককালামদের মত ক্রিকেটারের বিদায়, মিসবাহর পাকিস্তানের ‘পুশ-আপ’ কাণ্ড, শেষ ওভারে ইংলিশদের হৃদয় ভেঙ্গে কার্লোস ব্রেথওয়েটের নায়ক সাজা- নানা ঘটন আর অঘটনের মধ্য দিয়েই শেষ হতে চলেছে ২০১৬ সাল। বছরের শেষ দিকে এসে দেখে নেয়া যাক বছরের সেরা ১০ ক্রিকেটীয় ছবি।

এক ইনিংসেই হাজার রান

বছরের শুরুটাই হয়েছিল এক আশ্চর্যজনক রেকর্ডের মধ্য দিয়ে। ভারতের মুম্বাইয়ের প্রণব ধানাওয়াড়ে স্কুল ক্রিকেটে ১ ইনিংসে ১০০০ রান করা প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দারুণ এই রেকর্ডের অধিকারী হন। ১ম দিন ৬৫২ রানে অপরাজিত থাকার পর পরের দিন এই মাইলফলক স্পর্শ করেন প্রণব।

ওমানের আয়ারল্যান্ড বধ

আয়ারল্যান্ড টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছে বহুদিন ধরেই, দলটির সে সামর্থ্য আছে বলেও অনেকের বিশ্বাস। সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এই আয়ারল্যান্ডকেই নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে হারিয়ে সবাইকে চমকে দেয় ওমান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইরিশদের দেয়া ১৫৫ রানের লক্ষ্য টপকে ওমান এমন প্রাণোচ্ছল উদযাপন করছিল, মনে হচ্ছিল যেন বিশ্বকাপটাই জিতে ফেলেছে তারা! বিশ্বমঞ্চে প্রথম ম্যাচ খেলতে এসেই এমন জয়ের পর অবশ্য এমন উদযাপন না করাটাই অস্বাভাবিক হত!

ক্যারিবিয়ানদের হ্যাটট্রিক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্যারিবীয় সূর্য অস্তমিত হয়েছে অনেকদিন হল। নিজেদের সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের প্রায় ৪ দশক পূর্ণ হতে চলল, র‍্যাঙ্কিংয়ে এখন বাংলাদেশের নিচে তারা। তবে ২০১৬ সালে কিন্তু ক্যারিবীয় ক্রিকেটের নবজন্মই দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জয় দিয়ে শুরু, এরপর ভারতে পুরুষ ও নারী দুই বিভাগেই টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ক্যারিবীয়রা।

এক রানের আক্ষেপ

এক রানের এই আক্ষেপ বোধহয় সারা বছরই পিছু তাড়া করেছে বাংলাদেশি ভক্তদের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩ বলে ২ রানের সহজ সেই সমীকরণ মেলাতে না পারার পর হার্দিক পান্ডিয়া-বিরাট কোহলিদের বুনো উল্লাসের কথা মনে করলে এখনো হয়তো বুকের ভেতরটা চিনচিন করে উঠে অনেকের!

মিসবাহ  ও পাকিস্তানের পুশ-আপ

তার বয়স নাকি ৪২ চলছে, কিন্তু তার ফিটনেস দেখে সেটা বুঝবার উপায় কই? এখনো পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের মূলস্তম্ভ হয়ে রয়েছেন। ‘তরুণ’ এই মিসবাহই এবার লর্ডসে করেছেন অভূতপূর্ব এক কাণ্ড। ইংল্যান্ডে কঠিন এক সফরের আগে দেশে ট্রেনিংয়ের সময় সেনাবাহিনী সদস্যদের কাছে নাকি কথা দিয়েছিলেন, লর্ডসে সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে নাম তুলতে পারলে মাঠেই বুক ডন দিয়ে দেখাবেন। কথা রেখেছিলেন মিসবাহ, গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সামনে সেঞ্চুরির পর পুশ-আপ দিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। টেস্ট জয়ের পর অধিনায়ককে অনুসরণ করেছিল গোটা পাকিস্তান দলই।

বাঘের পর এবার বাঘিনী

টাইগারের গর্জন তো অনেকই শোনা হল, ২০১৬ তে এসে দেখা গেল ‘টাইগ্রেস’ এর গর্জনও। ইংল্যান্ড সিরিজে আচমকাই একদল বাঘিনী এসে হাজির স্টেডিয়ামে! বাঘ-বাঘিনীর এই যুগলবন্দীতে ইংল্যান্ডের সিংহদের কাঁপিয়ে দিয়েছে বাংলার বাঘেরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৮ রানে ঢাকা টেস্ট জিতে যায় বাংলাদেশ

ক্রিকেট ইজ অ্যা জেন্টেলম্যান্স’ গেম

ক্রিকেট মাঠে একটা জয় ছিনিয়ে নেয়ার জন্য চলে কত লড়াই, কত বাক্যবাণ ছুটে যায় একদিক থেকে আরেকদিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা তো একটা খেলাই, সহমর্মিতা আর ভদ্রতাই যেখানে চূড়ান্ত কথা। সহমর্মিতারই এক অনুপম প্রদর্শনী দেখিয়েছেন জো রুট, বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে। অভিষেক টেস্টেই দলকে দারুণ এক জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েও হার মানতে হয়েছিল সাব্বির রহমানকে। অনূর্ধ্ব ১৯ পর্যায়ে একসাথে খেলেছেন, ম্যাচ শেষেই তাই হতাশায় নুয়ে পড়া সাব্বিরের দিকে এগিয়ে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়ে এসেছেন রুট। যে ছবিটা আরেকবার মনে করিয়ে দিয়েছিল, ক্রিকেট ইজ অ্যা জেন্টেলম্যান্স’ গেম।

স্যরি স্টোকস!

২০১০ সালের পর নিজেদের প্রথম বৈশ্বিক শিরোপা জয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল এউইন মরগানের ইংল্যান্ড। পুরো টুর্নামেন্টেই দারুণ খেলা ইংলিশদের শিরোপা জয়ের মাঝে দূরত্ব ছিল মাত্র ৬ টা বল ও ১৯ রান। কঠিন এই লক্ষ্যই সহজে মিলিয়ে ফেললেন ‘অখ্যাত’ কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। টানা ৪ ছয়ে কেড়ে নিলেন ইংলিশদের শিরোপা স্বপ্ন, হতাশ স্টোকসের মুখ ঢেকে বসে পরার ছবি তাই এই বছরেরই সবচেয়ে করুণ ছবিগুলোর একটি।

বালক-বীর মিরাজের উল্লাস

গত বছর ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, এই বছর মুস্তাফিজ রূপে ধরা দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যুব ক্রিকেটের এই তারকা সিনিয়র লেভেলে এসেই লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছেন নিজের দিকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ টেস্টের সিরিজে নিয়েছেন ১৯ উইকেট। এর মধ্যে ঢাকা টেস্টেই ১২ উইকেট নিয়ে দেশকে এনে দিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সেরা জয়টি।

ধোনিদের জার্সিতে মায়েদের নাম

মহেন্দ্র সিং ধোনির জার্সিতে লেখা দেবকী, বিরাট কোহলির জার্সিতে লেখা সরোজ, রোহিত শর্মার জার্সিতে লেখা পূর্ণিমা! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে এমন অভূতপূর্ব দৃশ্যই দেখা গেছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের কল্যাণে। সমাজের অন্য সব ক্ষেত্রের মত ক্রিকেটারদের জীবনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বরাবরই আড়ালে থেকে যায়। মায়েদের এই ত্যাগ, পরিশ্রমকে সম্মান জানাতেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভাইজাগে দারুণ এই পদক্ষেপ নেয় ব্রডকাস্টার স্টার স্পোর্টস। ধোনিরা এদিন সবাই জার্সিতে নিজেদের মায়ের নাম লিখে মাঠে নামেন। গোটা বছরেরই অন্যতম সেরা ছবি ছিল এটি।

Category : ফিচার
Share this post