সাকিব-রিয়াদদের উত্থান

রিমন ইসলাম
ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬
প্রথম দু'টি সফরের মতে এবারও কোন জয় ছাড়াই নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরতে হয় সাকিব বাহিনীকে। প্রথম দু'টি সফরের মতে এবারও কোন জয় ছাড়াই নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরতে হয় সাকিব বাহিনীকে।

২০০১ ও ২০০৭ সালের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে নতুন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের নেতৃত্ব বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ড সফরে যায় নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে। বিতর্কিত আইসিএলে যোগ দিয়ে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন আগের সিরিজের বেশ কয়েকজন তারকা। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের জন্য এই সফরটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তিনটি ওয়ানডে, একটি টেস্ট ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল সেবার।

প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ। হ্যামিল্টনে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল ৭৮ রানেই অলআউট হয়। দুই ওপেনার ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং ইনগ্রামের ব্যাটে ভর করে বিনা উইকেটেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। মাত্র ২৭ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

নেপিয়ারে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৩৩৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড। আটটি চার ও পাঁচটি ছয়ের সাহায্যে মাত্র ৪০ বলে ৮৩ রানের বিধ্বংসী একটি ইনিংস খেলেন অলরাউন্ডার জ্যাকব ওরাম। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ দলের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। তামিম-ইমরুলের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ১০ ওভারেই ৭০ রান তোলে সফরকারীরা।

তবে একাদশ তম ওভারে ইমরুল কায়েস আউট হওয়ার পর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পরে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। তামিম একপ্রান্ত আগলে ৬২ রানের দায়িত্বশীল একটি ইনিংস খেললেও মিডল অর্ডারের নিদারুন ব্যর্থয়তায় ৪৩.৫ ওভারে ১৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পর বল হাতে দুই উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন জ্যাকব ওরাম।

ডুনেডিনে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরে বাংলাদেশ। মাত্র ৪৬ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে রীতিমত কাঁপছিল বাংলাদেশ দল। তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে মুশফিকুর রহিম এবং নাঈম ইসলাম দাঁতে দাঁত চেপে পাল্টা লড়াই শুরু করেন।

এই দুজনের ১০১ রানের অনবদ্য জুটির ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল সংগ্রহ করে ১৮৩ রান। দলীয় সর্বোচ্চ ৮৬ রান আসে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড খানিকটা চাপে পড়ে গেলেও রস টেলরের ৭৮ রান তাদের পাঁচ উইকেটের সহজ জয় এনে দেয়।

ক্রাইস্টচার্চে তৃতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে আবারো বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা। ইমরুল কায়েসের শতক বাংলাদেশকে দলকে ২৪১ রানের একটি লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। জবাবে মার্টিন গাপটিলের ৯১ রানের ওপর ভর করে সহজ জয়ের পথেই ছিল ব্ল্যাক ক্যাপরা।

তবে বল হাতে চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ রাখেন অধিনায়ক সাকিব। দলীয় ২১০ রানে নিউজিল্যান্ডের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটলে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে অপরাজিত ৩৪ রানের জুটিতে দলকে জয় এনে দেন ফ্রাংকলিন-বাটলার।

হ্যামিল্টনের সিডন পার্কে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ৫৫৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। মার্টিন গাপটিল করেন সর্বোচ্চ ১৮৯ রান। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে ১৬৬ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেটে নিয়ে সফল বোলার রুবেল হোসেন। প্রতিপক্ষের বড় সংগ্রহের জবাবে বাংলাদেশ দল প্রথম ইনিংসে সমুচিত জবাব দেয়। তামিম, সাকিবের ফিফটি এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ দল সব উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৪০৮ রান।

বিশেষ করে উল্লেখ করতে হবে রিয়াদের কথা। আট নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে টেল এন্ডারদের নিয়ে তিনি দুর্দান্ত ব্যাট করেছিলেন সেই ইনিংসে। শেষ চার উইকেটে বাংলাদেশ দল যোগ করে ২১২ রান যার সিংভাগই আসে রিয়াদের ব্যাট থেকে।

১৪৫ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা নিউজিল্যান্ড পাঁচ উইকেটে ২৫৮ রান করে ইনিংস ঘোষনা করে। ফলে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০৪ রান। টপ অর্ডারে কেউই তেমন রান না পেলেও সপ্তম উইকেটে জুটিতে সাকিব ও রিয়াদের ৬৮ রানের জুটি বাংলাদেশ দলকে আশা জাগাচ্ছিল। তবে ১০০ রান করে দলীয় ২৫২ রানে সাকিবের আউটের পরই বাংলাদেশের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২৮২ রানে অলআউট হয়ে ১২১ রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

প্রথম দু'টি সফরের মতে এবারও কোন জয় ছাড়াই নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরতে হয় সাকিব বাহিনীকে। তবে তরুণ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উথান ছিল এই সফরের বড় প্রাপ্তি। একই বছরের শেষদিকে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল নিউজিল্যান্ড এবং স্মরণীয় সেই সফরে ওয়ানডে সিরিজে তাদের ৪-০ তে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ দল।

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post