একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠা বাংলাদেশ

রিমন ইসলাম
ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬
তামিমের ওপেনিং পার্টনার জুনায়েদের সিদ্দিকীও খেলেন দৃষ্টি কিছু ইনিংস। তামিমের ওপেনিং পার্টনার জুনায়েদের সিদ্দিকীও খেলেন দৃষ্টি কিছু ইনিংস।

২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ দল দ্বিতীয়বারের মত নিউজিল্যান্ডে সফরে গেলেও আদতে সেটা ছিল প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। কারন, ২০০১ সালের প্রথম সিরিজে ছিল শুধু দুটি টেস্ট ম্যাচ। সদ্যই টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া বাংলদেশ দল সেই সফরে দাঁড়াতেই পারেনি নিউজিল্যান্ডের সামনে।

তবে, ২০০৭ সালের বাংলাদেশ দলটা আগের চেয়ে পরিণত ছিল। এছাড়া দলে ছিল আশরাফুল, আফতাব, সাকিব, জুনায়েদ, তামিমের মত একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। ফলে প্রত্যাশাটাও ছিল আগেরবারের চেয়ে বেশি। তৎকালীন কোচ জেমি সিডন্স এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল দুজনই দল নিয়ে ছিলেন বেশ আশাবাদী। শেষ পর্যন্ত সেই সফরে সবগুলো ম্যাচেই পরাজিত হলেও জেমি সিডন্সের দলটি উন্নতির ছাপটা অব্যাহত রেখেছিল যা পরবর্তীতে বাংলদেশ দলের সাফল্যে প্রতিফলিত হয়।

অকল্যান্ডে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। তামিম ইকবাল করেন অর্ধশত রান, মাত্র ৫৭ বলে ৭০ রানের ঝড়ো একটি ইনিংস খেলে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক আশরাফুল। ২৮ তম ওভার শেষে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ছিল ১৫০ রান। কিন্তু আশরাফুলের বিদায়ের পর মিডল অর্ডারের রীতিমত ধস নামে।

চোখের পলকেই স্কোরবোর্ড ১৫০/৩ থেকে হয়ে যায় ১৫৪/৭! শেষদিকে মাশরাফি এবং রাজ্জাক কিছুটা লড়াই বাংলাদেশ দল ২০১ রানেই অল আউট হয়ে যায়। জবাবে মাত্র চার উইকেট হারিয়ে হেসেখেলেই জয়ের লক্ষ্যে পোঁছে যায় ব্ল্যাক ক্যাপরা।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা রীতিমত বাংলাদেশের বোলারদের ওপর দিয়ে তান্ডব বইয়ে দেন। নেপিয়ারে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের সামনে ৩৩৬ রানে পাহাড়সম টার্গেট ছুড়ে দেয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে পরিবর্তিত টার্গেট দাঁড়ায় ৪৩ ওভারে ২৮৪ রান। আফতাব আহমেদের ফিফটি এবং তামিমের ৪৩ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৮১ রান।

কুইন্সটাউনে তৃতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ড্যানিয়েল ভে্ট্টোরির তোপের মুখে বাংলাদেশ দলের ইনিংস মাত্র ৯৩ রানেই গুটিয়ে যায়। মাত্র সাত রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের ওপর ত্রাস ছড়ান এই বাঁহাতি স্পিনার। ছোট টার্গেট তাড়া করতে নেমে কিউই ওপেনার ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম মাত্র ৩১ বলে ৮০ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন। ২৬৪ বল হাতে রেখে ১০ উইকেটের বিশাল জয় পায় নিউজিল্যান্ড এবং ৩-০ তে সিরিজ জিতে নেয়।

ডুনেডিন এবং ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত দুটি টেস্টেই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা ওয়ানডে সিরিজের ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটান। উভয় টেস্টেই বাংলাদেশ দল প্রথমে ব্যাট করে এবং প্রতিবারই ১৫০ রানের নিচে অলআউট হয়। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে উদ্ভোদনী জুটিতে তামিম এবং জুনায়েদ ১৬১ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন।

কিন্তু, তাদের বিদায়ের পর আবারো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ফলশ্রুতিতে ২৫৪ রানে অলআউট হয়ে মাত্র ৩৪ রানের লিড পায়। জবাবে এক উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। তবে এর মাঝেও বাংলাদেশ দলের প্রাপ্তি ছিল অভিষেক টেস্টের উভয় ইনিংসেই তামিম ইকবালের অর্ধশত রানের দুটি ইনিংস।

দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টে টেস্টে বাংলাদেশ দল আরো শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। প্রথম ইনিংসে ১৪৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস এবং ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে টেস্ট সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হয় জেমি সিডন্সের শিষ্যরা।

অচেনা বাউন্সি কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে না নিতে পারাটাই ছিল সেবারের সফরে বাংলাদেশ দলের ভরাডুবির অন্যতম প্রধান কারণ। তবে দলীয় ব্যর্থতার মাঝেও বেশ কিছু খেলোয়াড় নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছিলেন। ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজ মিলিয়ে চারটি ফিফটি করে দলের সবচেয়ে সফল ব্যাস্টম্যান ছিলেন তামিম ইকবাল। তামিমের ওপেনিং পার্টনার জুনায়েদের সিদ্দিকীও খেলেন দৃষ্টি কিছু ইনিংস। বোলারদের মধ্যে মাশরাফি মুর্তজা এবং শাহাদাত হোসেন সিমিং কন্ডিশনের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে যথাসাধ্য ভাল বোলিং করেছিলেন।

দীর্ধ নয় বছর পর সোমবার বক্সিং ডে ওয়ানডে দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ। বাউন্সি কন্ডিশন এবং ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে এই সফরটি মোটেও সহজ হবেনা বাংলাদেশ দলের জন্য।

তবে, এই দলটি পূর্বের দলগুলোর চেয়ে অভিজ্ঞতা এবং শক্তিমত্তার দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে। তাছাড়া এবারের প্রস্তুতিটাও হয়েছে বেশ ভাল। তাই, আশা করা যায় এবার দু’দলের মধ্যে লড়াইটা হবে জমজমাট।

Category : ফিচার
Share this post