ক্যাচ মিস, তবে সিরিজ মিস নয়!

রিমন ইসলাম
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬
  পার্থিব প্যাটেল দু’দলের মধ্যে সর্বাধিক সাতটি ক্যাচ ফেলেছেন।  পার্থিব প্যাটেল দু’দলের মধ্যে সর্বাধিক সাতটি ক্যাচ ফেলেছেন।

‘আমাদের ক্যাচ এখনো গড়পড়তা মানের। আমার মনে হয় শেষ তিনটি ড্রপ ক্যাচ থেকে ভারত প্রায় ৫০০ রান করেছে!’, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে চেন্নাই টেস্টে ইংল্যান্ডের শোচনীয় পরাজয়ের পর প্রধান কোচ ট্রেভর বেইলিসের কণ্ঠে ছিল একরাশ হতাশা।

নাম উল্লেখ না করলেও বেইলিসের অভিযোগের তীরটা যে মূলত অধিনায়ক অ্যালিস্টেয়ার কুকের দিকেই তা বোঝাই যায়। ব্যক্তিগত ৩৪ রানে থাকা অবস্থায় করুন নায়ারের ক্যাচ ফেলে দেন কুক, সেই নায়ার শেষ পর্যন্ত ৩০৩ রানে অপরাজিত থাকেন যা কিনা ভারতের মাটিতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

মুম্বাইয়ে আগের টেস্টে সফরকারীরা বিরাট কোহলি, জয়ন্ত যাদব এবং মুরালি বিজয়ের ক্যাচ ফেলেছিল এবং প্রত্যেকেই পরবর্তীতে শতক হাঁকান। তবে শুধু ইংল্যান্ডই নয়, সিরিজ জুড়ে ভারতীয় দলও ক্যাচ মিসের মহড়া দিয়েছে। একটু খতিয়ে দেখা যাক কোন দলকে ক্যাচ মিসের কতটা মাসুল দিতে হয়েছে।

পুরো সিরিজে ক্যাচ মিসের হিসাব করলে দেখা যাবে ইংল্যান্ডের ১৫ টি ক্যাচ মিসের বিপরীতে ভারত ক্যাচ ফেলেছে ১৯ টি। তবে ক্যাচ মিস থেকে গড়প্রতি রান সংগ্রহে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে ইংল্যান্ড। ক্যাচ মিস থেকে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ গড়ে ৩৬.৬৯ রান।

অন্যদিকে ভারত করেছে গড়ে ৫৯.০৭ রান। ভারতের তিনজন ব্যাটম্যান ক্যাচ মিসের পর শতক হাঁকিয়েছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে শূন্য রানে জীবন পাওয়ার পর সেটিকে শতকে রূপান্তরিত করেছেন অভিষিক্ত কেটন জেনিংস। এছাড়া আর কেউই ক্যাচ মিসের পর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

ক্যাচ মিস থেকে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাওয়ার তালিকায় উপরের দিকেই আছেন দুই ইংলিশ তারকা এলিস্টার কুক এবং জনি বেয়ারস্টো, দু’জনই পাঁচবার করে নতুন জীবন পেয়েছেন। আজিঙ্কা রাহানে একাই তিনবার কুকের ক্যাচ ফেলেছেন। অন্যদিকে বেয়ারস্টোর ভাগ্যটা ছিল আরো সুপ্রসন্ন। এক ইনিংসেই তিনবার তার ক্যাচ ফেলেছেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। মজার ব্যাপার হল এই দুজনই আবার ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বাধিক ক্যাচ মিস করেছেন।

ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিজয় সর্বাধিক তিনবার নতুন জীবন পেয়েছেন, অন্যদিকে কোহলি, নায়ার, পূজারা এবং জয়ন্ত যাদবের ক্যাচ পড়েছে দুইবার করে। দুদলের হয়ে পাঁচটি টেস্টে অংশগ্রহনকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবল রবীন্দ্র জাদেজা এবং আদিল রশিদই দ্বিতীয়বার কোন সুযোগ পাননি। দুইবার নতুন জীবন পাওয়ার পর ২৭৮ রান করে ক্যাচ মিসের সর্বোচ্চ সদ্যবহার করেছেন কোহলি এবং দুই ক্ষেত্রেই আসামি আদিল রশিদ।

বোলারদের দিকে তাকালে দেখা যাবে সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী অশ্বিনই সবচেয়ে দুর্ভাগা বোলার। তার বলে ক্যাচ পড়েছে মোট সাতবার। বেন স্টোকস এবং উমেশ যাদবের বলে সংখ্যাটা যথাক্রমে পাঁচ ও চার।

সন্দেহতীতভাবেই সিরিজের সবচেয়ে বাজে ফিল্ডার ভারতের পার্থিব প্যাটেল। একাধিক স্টাম্পিংয়ের সুযোগ মিস করা ছাড়াও মাত্র তিনটি টেস্ট খেলেই প্যাটেল দু’দলের মধ্যে সর্বাধিক সাতটি ক্যাচ ফেলেছেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে ব্যাট হাতে গড়ে ৬৪.৮০ গড়ে রান তোলা স্টোকস-বেয়ারস্টো জুটি সবচেয়ে বেশি ক্যাচ মিসের জুটিও গড়েছেন।

স্টোকসের বলে সর্বাধিক তিনটি ক্যাচ ফেলেছেন বেয়ারস্টো। ভারতের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারটি ক্যাচ মিস করলেও বরাবরই কোহলির ভাগ্যটা ছিল বেশ ভালো। কেননা এর কোন ক্যাচ মিসই পরবর্তীতে ৩৮ রানের বেশি দেয়নি।

রাজকোটে প্রথম টেস্টে সর্বাধিক ১১ টি ক্যাচ মিসের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসেই ছিল পাঁচটি। মোহালিতে ক্যাচ পড়েছে ১০ বার, উভয় দলই প্রথম ইনিংসে চারটি করে ক্যাচ ফেলেছে। ভিজাগে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টেই সবচেয়ে কম ক্যাচ মিস হয়েছে, মাত্র তিনবার!

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post