জাদেজা কেন বর্ষসেরা দলে!

সঞ্জয় পার্থ
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬
  এমন দু'জন ছিলেন যারা জাদেজার চেয়ে বর্ষসেরা দলে জায়গা পাওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন।  এমন দু'জন ছিলেন যারা জাদেজার চেয়ে বর্ষসেরা দলে জায়গা পাওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন।

আইসিসির বর্ষসেরা দল ঘোষণা হয়ে গেছে দু’দিন হয়ে গেল, এখনো তা নিয়ে বিতর্ক শেষ হল না। আসলে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমন দল নির্বাচন করেছে, বিতর্ক হওয়াটা অবধারিতই ছিল। বর্ষসেরা ওয়ানডে দলের বাকি নামগুলো নিয়ে খুব একটা আপত্তি নেই কারোরই, কেবল রবীন্দ্র জাদেজার নামটা বাদে। ভারতীয় এই অলরাউন্ডার কিভাবে, কোন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বর্ষসেরা দলে জায়গা পেলেন, সেটিই আসলে বোধগম্য হচ্ছে না।

আইসিসির পক্ষে থেকে বলা হয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ এই সময়ের মধ্যে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বর্ষসেরা দল নির্বাচন করা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জাদেজার পারফরম্যান্স কেমন? পরিসংখ্যান বলবে, আহামরি কিছুই নয়। এমন কোন পারফরম্যান্স জাদেজার ছিলনা যা তাঁকে বর্ষসেরা একাদশে জায়গা করে দেবে।

ইএসপিএন ক্রিকইনফো বলছে, এই সময়ের মধ্যে জাদেজা ওয়ানডে খেলেছেন পাঁচটি। তাতে রান করেছেন মাত্র ৪৫, ব্যাটিং গড়ও তাই। সর্বোচ্চ মোটে ২৪ রানের অপরাজিত এক ইনিংস আছে তার। বাঁ-হাতি স্পিনে উইকেট নিয়েছেন তিনটি, তার মধ্যে দু’টিই আবার এক ম্যাচে। বোলিং গড় ৮৫.৬৬!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে জাদেজা কোন ক্যাটাগরিতে দলে এসেছেন? বেশিরভাগেরই মতামত একজন বোলিং অলরাউন্ডার, বিশেষ করে একজন বাঁ-হাতি বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব পূরণ করতেই জাদেজাকে দলে আনা। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন দাঁড়ায় জাদেজার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করেছেন এমন কোন বাঁ-হাতি বোলিং অলরাউন্ডার কি ছিলনা আর কেউ?

পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত এমন দু'জন ছিলেন যারা জাদেজার চেয়ে বর্ষসেরা দলে জায়গা পাওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন। পাকিস্তানের ইমাদ ওয়াসিম আর নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার।

২০১৫ তেই পাকিস্তান দলে অভিষিক্ত ইমাদ এই সময়ের মধ্যে বেশ ভালই পারফর্ম করেছেন। ৮ ম্যাচ খেলে ২১৫ রান করেছেন, সর্বোচ্চ স্কোর ৬৩ রানে অপরাজিত। ব্যাটিং গড় তো চোখ কপালে তুলে দেয়ার মত, ১০৭.৫০! বাঁ-হাতি স্পিনটাও মন্দ করেননি, আট ম্যাচে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। গড়ও যথেষ্ট ভালো, ২০.৩৮। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ১৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন, যেটা আবার তার সেরা ওয়ানডে বোলিংও।

মিচেল স্যান্টনারের পারফরম্যান্সও ছিল বেশ উজ্জ্বল। নিউজিল্যান্ডের এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার এই সময়ের মধ্যে ৯ ম্যাচ খেলে করেছেন ১৯৭ রান। ব্যাটিং গড় ৯৮.৫০, সর্বোচ্চ স্কোর ৪৮। বাঁ-হাতি স্পিনে ৯ ম্যাচে ৮ উইকেট, বোলিং এভারেজ ৩৬.১২।

খটকাটা তাই এখানেই। জাদেজাকে যদি বোলিং অলরাউন্ডারের কোটা পূরণের জন্যই নেয়া হয়, তাহলে ইমাদ বা স্যান্টনারের কেন জায়গা হল না এই দলে? ব্যাটে বলে দুই জায়গাতেই জাদেজার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন এই দুজন। আইসিসিও কোন পরিষ্কার ব্যাখ্যা না দেয়ায় ব্যাপারটা নিয়ে ধোঁয়াশা তাই থেকেই যাচ্ছে।

অথচ জাদেজাকে জায়গা করে দিতে গিয়ে দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে ইমরান তাহিরকে, যিনি এই সময়ের মধ্যে বল হাতে ছিলেন দারুণ। ১৬ ওয়ানডে খেলে ২৭.১৪ গড়ে উইকেট পেয়েছেন ২৮ টি। নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংটাও এই সময়ের মধ্যেই করেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে ৪৫ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৭ উইকেট।

প্রশ্ন তাই থেকেই যাচ্ছে, বোলার এবং অলরাউন্ডার দুই ক্যাটাগরিতেই জাদেজার চেয়ে ভালো পারফর্ম করেও কেন এরা একাদশের বাইরে? আর জাদেজাই বা কোন পারফরম্যান্সের সুবাদে বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে? উত্তরটা বোধহয় আইসিসিই সবচেয়ে ভালো দিতে পারবে!

Category : ফিচার
Share this post