সাত দিনে সাত অর্জন

রিমন ইসলাম
ডিসেম্বর ২১, ২০১৬
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য ২০১৬ সালটি ছিল সাফল্যে ভরপুর। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য ২০১৬ সালটি ছিল সাফল্যে ভরপুর।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য ২০১৬ সালটি ছিল সাফল্যে ভরপুর। ব্যক্তিগত এবং দলগত, উভয় দিক থেকেই একের পর এক অর্জনে ৩১ বছর বয়সে এসে পার করলেন ক্যারিয়ার সেরা বছরটি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি পর্তুগালের হয়ে জয় করেছেন অধরা ইউরো চ্যাম্পিয়নের শিরোপা।

ব্যক্তিগতভাবে উয়েফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি বছরের শেষে এসে জয় করেছেন চতুর্থ ব্যালন ডি অর। তবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দিক থেকে দেখা হলে গেল সপ্তাহে রোনালদোর অর্জন  তাতে তাঁর তো বটেই,  ফুটবল ইতিহাসেও কোনো ফুটবলারের সেরা একটি সপ্তাহ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবিদার। কিভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক সাত দিনে রোনালদোর অর্জনগুলো।

১. ব্যালন ডি অর জয়ী

সপ্তাহের শুরুতেই ২০১৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী হন রোনালদো। দুই নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও আন্তোনিও গ্রিজম্যানের চেয়ে বিপুল ভোটে রোনালদো জয়ই প্রমান করে বছরজুড়ে কতটা অপ্রতিরোধ্য ছিলেন তিনি।

২. ৫০০ তম গোল

 ব্যালন ডি অর জয়ের দুদিন পর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্লাব আমেরিকার বিপক্ষে ইনজুরি টাইমে দলীয় দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো। যদিও ভিডিও রেফারিং সিস্টেমের ভুলের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে গোলটি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে গোল নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই রোনালদো ব্যক্তিগত বড় একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন। কেননা, গোলটি ছিল রোনালদোর ক্লাব পর্যায়ে ৫০০ তম গোল।

৩. ফাইনালে হ্যাটট্রিক

ক্লাব ফুটবল ফাইনালের পুরো ম্যাচে একরকম নিষ্প্রভ থেকেও টুর্নামেন্ট জেতা, তাও হ্যাট্রিক করে দলকে একই জিতিয়ে দেয়া! এমনটা কেবল রোনালদোর পক্ষেই সম্ভব। বিশেষ করে অতিরিক্ত সময়ে মাত্র ২২ মিনিটে দুই গোল করে রোনালদোই দু’দলের মাঝে পার্থক্য গড়ে দেন। এছাড়া দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায়ও ফেরান তিনি।

৪. পেলের কীর্তি স্পর্শ

 তর্কাতীতভাবে সর্বকালের সেরা ফুটবলার ব্রাজিলের জীবন্ত কিংবদন্তী পেলে। মেসি-রোনালদোরা যতই গোল করুন কিংবা শিরোপা জয় করুন, পেলের সাথে তুলনায় দু’জনই পিছিয়ে থাকবেন। তাই যেকোন ক্ষেত্রে পেলের একক কোন কীর্তিতে ভাগ বসানোটা তাদের জন্য বড় অর্জনই বলতে হবে।  কাশিমা এন্টলার্সের বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে পেলের তেমনি একটি রেকর্ডে নাম লেখান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ১৯৬২ সালে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেন পেলে। ৫৪ বছর পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করলেন রোনালদো। অর্জনের দিক থেকে এটিও তাই একটি বড় প্রাপ্তি তার জন্য।

৫. ৪০তম হ্যাটট্রিক

কাশিমা এন্টলার্সের বিপক্ষে ফাইনালে রোনালদোর করা হ্যাটট্রিকটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ৪০তম। রীতিমত ঈর্ষণীয় অর্জন। যেভাবে এগিয়ে চলেছেন, তাতে খুব শীঘ্রই রোনালদো হ্যাটট্রিকের ফিফটিও করে ফেলবেন বলে ধরে নেয়াই যায়।

৬.  গোল্ডেন বল জয়

সপ্তাহের শুরুতেই চতুর্থবারের মত পেয়েছেন ব্যালন ডি অরের গোল্ডেন বল। আবার সপ্তাহের শেষেও পেলেন আরেকটি গোল্ডেন বল। দ্বিতীয়টি পেয়েছেন ক্লাব বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে। দুই ম্যাচে একটি হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করে আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এছাড়া ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়ে পেয়েছেন একটি টয়োটা গাড়ি।

৭. আরেকটি শিরোপা:

অর্জনের দিক থেকে হয়ত রোনালদো পর্তুগালের হয়ে ইউরো জয় এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়কেই এগিয়ে রাখবেন, তবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জেতাটাও কিন্তু কম সম্মানের নয়। ক্যারিয়ারের তৃতীয়বারের মত এই শিরোপা জয় করলেন তিনি। দুইবার জিতেছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এবং একবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে।

আগামী মাসের ৯ তারিখে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করা হবে. দলগত ও ব্যক্তিগত সাফল্যে ভরপুর একটি বছর পার করা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যে সেখানেও সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন, সেটা বলাই বাহুল্য।

Category : ফিচার
Share this post