বছরটা শুধুই রোনালদোর

সব মিলিয়ে সর্বশেষ ১৬ ম্যাচে ১৮ গোল! সব মিলিয়ে সর্বশেষ ১৬ ম্যাচে ১৮ গোল!

চলতি বছরের শুরুর দিকে কাতালান ভিত্তিক পত্রিকা দ্য স্পোর্টস ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবিসহ একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যার শিরোনাম ছিল - ‘দ্য এন্ড’। টানা কয়েকম্যাচ গোলশূন্য, দলের পাশাপাশি নিজেও প্রচণ্ড বাজে ফর্মের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ব্যস, চারদিকে হৈচৈ - তাহলে কি ফুরিয়ে গেলেন রোনালদো? বয়সের কাছে হার মেনে গেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো?

তবে শুনেছি, সাহসীরা নাকি হার মানেন না। একটা পরাজয়ে পিছিয়ে পড়েন না। আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতার মাধ্যমে আবারো বিজয়ীর হাসি হাসেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তো তেমনই সাহসী একজন। জন্মের পর থেকেই যে তিনি লড়তে শিখে গেছেন। অভাবের সাথে নিত্যদিন যুদ্ধ করে যে আজকের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হয়ে উঠেছেন, তিনি কী করে এত সহজে হার মানেন?

তিনি হার মানেননি, তিনি ফিরে এসেছেন; পারফরম্যান্স দিয়েই সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছেন। বছরের শুরুতে সেই ম্লান হাসির রোনালদো বছরটা শেষ করছেন হাসিমুখে।

বছরের শুরুতেই যার হাত ছিল শূন্য, ১২ মাস ঘুরতেই তার দু’হাত আজ অর্জনে পরিপূর্ণ। জাতীয় দল কিংবা ক্লাব - সব জায়গাতেই জায়গাতেই রোনালদো পারফরম্যান্স আর অর্জনের দিক থেকে ছিলেন উজ্জ্বলতর এক নক্ষত্র।

চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরো কাপ, উয়েফা সুপার কাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ - একই বছরে জিতেছেন এই চারটা দলগত ট্রফি। ব্যাক্তিগত অর্জন হিসেবে আছে ইউরো পটি, ইউরো সিলভার বুট, ব্যালন ডি’অর, সাথে ক্লাব বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার গোল্ডেন বল। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ফুটবলার হিসেবে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৫০০ গোল করেছিলেন, যার শেষটা করেছেন শুধুই ক্লাবের হয়ে ৫০০ গোল করে - যেখানে এই শতাব্দীতে শুধু তিনিই রাজা।

টানা সাতটা টুর্নামেন্টে গোল কিংবা চার ইউরোতে গোল, বা দুই ক্লাবের হয়ে ক্লাব বিশ্বকাপে গোলের কীর্তিও এই রোনালদোর। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগেই সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন, বছর শেষে ক্লাব বিশ্বকাপেরও সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ থেকে ক্লাব বিশ্বকাপ নামকরণ হওয়ার পর এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে কেউ হ্যাটট্রিক করতে পারেননি।

রোনালদো সেই রেকর্ড টাও নিজের করে নিলেন। ফুটবল সম্রাট পেলের পরে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে আর আধুনিক ক্লাব বিশ্বকাপের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ফাইনালে হ্যাটটিক করার নজীর গড়লেন।

এই বছরে ৫৭ ম্যাচে ৫৫ গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ১৭ বার, সাথে ব্যাক্তিগত অর্জনগুলো ছিলো ঈর্ষা করার মতই। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্যারিয়ারের ৪০ বার গোলের হ্যাটট্রিক; জাতীয় দলের হয়ে ১৩ ম্যাচে ১৩ গোল; কিংবা সব মিলিয়ে সর্বশেষ ১৬ ম্যাচে ১৮ গোল - এই ক্রিস্টিয়ানো ছুটছেন অবিরাম গতিতেই।

রিয়াল মাদ্রিদের টানা ৩৭ টি ম্যাচে না হারার রেকর্ড সাথে রোনালদোর।  দিন দিন রোনালদো এই ফুটবল কারিশমার পরিধি বাড়ছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, সাফল্যই যেন তার পিছনে ছুটছে। সত্যি, ২০১৬ সালটা শুধুই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।

Category : ফিচার
Share this post