অ্যালিস্টেয়ার কুক ও তাঁর ১১ সঙ্গী!

সঞ্জয় পার্থ
ডিসেম্বর ১৯, ২০১৬
তড়িঘড়ি করে জেনিংসকে টেস্ট দলে ডাকা হয়। তড়িঘড়ি করে জেনিংসকে টেস্ট দলে ডাকা হয়।

ভারতের বিপক্ষে মুম্বাই টেস্টে অভিষেকেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন ইংলিশ ওপেনার কিটন জেনিংস। ২০১২ সালে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের অবসরের পর থেকে এই নিয়ে ১১ জন ওপেনিং সঙ্গী পেলেন অ্যালিস্টেয়ার কুক! কুকের এই ‘ওপেনিং একাদশ’ নিয়েই আজকের আয়োজন।

১. নিক কম্পটন

নিউজিল্যান্ডে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করে ওপেনার হিসেবে উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ডেনিস কম্পটন পৌত্র নিক কম্পটন। কিন্তু ওই পর্যন্তই, এরপর আর কখনোই ওপেনার হিসেবে ২০ এর কোটাও পেরোতে পারেননি কম্পটন। ফলস্বরূপ ২০১৩ অ্যাশেজের আগে দল থেকে বাদ পরেন তিনি। পরবর্তীতে ওয়ান ডাউনে খেলার জন্য ডাক পেয়েছিলেন আবার, কিন্তু ফর্মে ফিরতে পারেননি।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট ১০ টি

দুই সেঞ্চুরি, এক হাফ সেঞ্চুরি

সর্বোচ্চ ১১৭ রান, গড়: ৩১.১২

২. জো রুট

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ওপেনার হিসেবে খেলানো হয়েছিল রুটকে। ২০১৩ অ্যাশেজে কুকের ওপেনিং সঙ্গী হিসেবে অজিদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রুট। যদিও লর্ডসে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন, কিন্তু সিরিজে ৩০ এর বেশি করতে পেরেছিলেন আর একবারই। ওই অ্যাশেজের পরেই দল থেকে বাদ পরেন, কিন্তু ফিরে এসে নিজেকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানে পরিণত করেছেন। সর্বশেষ রুটকে ওপেনার হিসেবে দেখা গেছে ভারতের বিপক্ষে মোহালি টেস্টে, হাসিব হামিদের ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেন করতে নেমেছিলেন রুট।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট ছয়টি

এই সেঞ্চুরি ও দুই হাফ সেঞ্চুরি

সর্বোচ্চ ১৮০ রান,গড় ৪১.৭০

৩.মাইকেল কারবেরি

এই ১১ জনের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা বোধহয় বলতে হবে মাইকেল কারবেরিকেই। ওপেনার হিসেবে খেলা ৬ টেস্টের ৫ টিই খেলেছেন ২০১৪ অ্যাশেজে দুর্দান্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। মিচেল জনসন আর রায়ান হ্যারিসের তোপে পড়ে পুরো ইংল্যান্ডের অবস্থাই হরহরি কম্পমান ছিল সেবার। বাকি সবার মত কারবেরির পারফরম্যান্সও সাদামাটাই ছিল। পুরো সিরিজে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি বল খেলেছিলেন, তাঁর চেয়ে বেশি রান করেছিলেন কেবল কেভিন পিটারসেন। কিন্তু দুঃস্বপ্নের ওই অ্যাশেজ শেষে ইংল্যান্ড টিম নতুন করে ঢেলে সাজানো হলে বাদ পড়ে যান কারবেরি।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট ছয়টি

একটি হাফ ঞ্চেুরি

সর্বোচ্চ ৬০ রান, গড় ২৮.৭৫

৪. স্যাম রবসন

সিডনিতে জন্ম নেয়া রবসন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপেও খেলেছেন। কিন্তু ইংরেজ মায়ের সুবাদে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়ে যান থ্রি লায়ন্সের হয়ে। দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি করে সম্ভাবনার আলো জ্বালিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে দুর্বলতা খুব দ্রুতই আবিষ্কার করে ফেলেন বোলারেরা। ১১ টেস্ট ইনিংসে ৪ বার বোল্ড আর ৫ বার স্লিপে ক্যাচ দেয়াই প্রমাণ করে টেকনিকে রবসনের দুর্বলতা। সর্বশেষ ৪ টেস্টে ৪০ এর বেশি না করতে পারায় ২০১৪ ইংলিশ মৌসুম শেষে দল থেকে বাদ পরেন রবসন।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট সাতটি

একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি

সর্বোচ্চ ১২৭ রান, গড় ৩০.৫৪

৫. জোনাথন ট্রট

দুর্দশা কাটাতে ২০১৫ ক্যারিবীয় সফরে ওপেনার হিসেবে খেলেছিলেন জোনাথন ট্রট। লাভ হয়নি, ফিরে পাননি নিজেকে। গ্রানাডা টেস্টে একটা ফিফটি পেয়েছিলেন, কুকের সাথে ১২৫ রানের জুটিও গড়েছিলেন। এছাড়া বলার মত আর কিছুই করতে পারেননি। ৬ ইনিংসে ৩ বার ডাক ও ২ বার ১০ এর নিচে আউট হয়েছিলেন।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট চারটি

একটি হাফ সেঞ্চুরি

সর্বোচ্চ ৬০ রান, গড় ১৯.৩৭

৬. অ্যাডাম লিথ

রবসনের মত লিথের ক্যারিয়ারও শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন লিথ। কিন্তু ভালো ওই শুরুটা ধরে রাখতে পারেননি লিথ। ওই সেঞ্চুরির পর ২০ এর বেশি রান করতে পেরেছেন মাত্র ১ বার। রবসনের মতই অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে দুর্বলতা লিথকে দলের বাইরে ঠেলে দেয়।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট সাতটি

একটি সেঞ্চুরি

সর্বোচ্চ ১০৭ রান, গড় ২০.৩৮

৭. মঈন আলী

আট নম্বর থেকে একেবারে ওপেনিংয়ে, মঈন বোধহয় নিজেই কিছুটা চমকে গিয়েছিলেন। আমিরাতে বাড়তি স্পিনার খেলানোর জন্য মঈনকে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয়, কিন্তু প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি মঈন। শুরুটা ভালই করেছিলেন, সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে কুকের সাথে মিলে ১১৬ রান যোগও করেছিলেন। ওই ইনিংসে ৩৫ রান করেছিলেন, এরপরের পাঁচ ইনিংসে ২৫ এর বেশি করতে পারেননি।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট তিনটি

সর্বোচ্চ ৩৫ রান গড় ১৪

৮. অ্যালেক্স হেলস

রঙিণ পোশাকের ফর্মটাকে কখনোই সেভাবে সাদা পোশাকে টেনে নিয়ে যেতে পারেননি হেলস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ ইনিংসের মধ্যে ৩ বার ৮০ পেরোলেও তিন অঙ্কের দেখা পাওয়া হয়নি একবারও। পাকিস্তানের বিপক্ষে চার টেস্টের সিরিজে মাত্র ১৮.১২ গড়ে রান করায় এমনিতেই চাপ বাড়ছিল হেলসের উপর। পরে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ সফরে না আসায় দল থেকে বাদ পরেন হেলস।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট: ১১

পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি

সর্বোচ্চ ৯৪ রান গড় ২৭.২৮

৯. বেন ডাকেট

ঘরোয়া ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পার্থক্যটা বুঝতে হলে বেন ডাকেটের পারফরম্যান্সের দিকে একবার তাকাতে পারেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে জাতীয় দলে এলেও টেস্ট অঙ্গনে এসেছে খাবি খেয়েছেন ডাকেট। বাংলাদেশের স্পিনবান্ধব উইকেটে অভিষেক হওয়ায় নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা ভাবতে পারেন ডাকেট, তবে তাকে আত্মবিশ্বাস যোগাতে পারে ঢাকা টেস্টের শেষ ইনিংসে পাওয়া আক্রমণাত্মক হাফ সেঞ্চুরিটা।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট দু’টি

একটি হাফ সেঞ্চুরি

সর্বোচ্চ ৫৬, গড় ২৩

১০. হাসিব হামিদ

পরিসংখ্যান ঠিকভাবে বুঝাবে না ভারত সফরের প্রথম তিন টেস্টে কি দারুণ টেকনিক ও মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন হাসিব হামিদ। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে অভিষেকে সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। তারপরেও টিনএজার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোরের মালিক হামিদ। ভাইজাগ টেস্টে ২৫ রানের ইনিংসটি দিয়ে নিজের টেম্পারামেন্ট ও টেকনিকের প্রমাণ দিয়েছেন। মোহালি টেস্টে ৮ নম্বরে নেমে ভাঙা আঙুল নিয়ে যে ইনিংসটি খেলেছেন, দীর্ঘ সময়ের জন্য হামিদ কুকের ওপেনিং সঙ্গী না হলে অবাকই হতে হবে।

ওপেনার হিসেবে টেস্ট তিনটি

একটি হাফ সেঞ্চুরি

সর্বোচ্চ ৮২  রান, গড় ৩২

১১. কিটন জেনিংস

হাসিব হামিদের ইনজুরি আর ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ফর্মের কারণে তড়িঘড়ি করে জেনিংসকে টেস্ট দলে ডাকা হয়। হতাশ করেননি জেনিংস। অশ্বিনের স্পিন সামলে মুম্বাইয়ের উইকেটে অভিষেকেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন জেনিংস।

Category : ফিচার
Share on your Facebook
Share this post