আনন্দের সেই সময়

আজাদ মজুমদার
নভেম্বর ১৬, ২০১৬
পুরষ্কার নিচ্ছেন আজাদ মজুমদার পুরষ্কার নিচ্ছেন আজাদ মজুমদার

আমি যেদিন শুনলাম যে, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড নাইট অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে, বেশ ভালো লেগেছিলো। আমাদের মতো মানুষ, যারা বছরের পর বছর অন্যের সাফল্য বন্দনা করতে ছুটে বেড়ায়, কিন্তু নিজেরা স্বীকৃতি পায় না, তাদের জন্য এই ধরণের উদ্যোগ খুব জরুরী। কিন্তু আমি কখনো কল্পনা করতে পারিনি যে, এই প্রথম অনুষ্ঠানটাই আমার জন্য কতো চমক নিয়ে অপেক্ষা করছে।

এমনকি এক অলস আড্ডায় আমার অফিসের এক সহকর্মী যখন আমাকে বললেন যে, অ্যাওয়ার্ড নাইটে আমার নাম শর্টলিস্টে থাকতে পারে, তখনও আমি বিশ্বাস করিনি। কারণ আমি ভাবছিলাম, গত এক বছরে আমি এমন কোনো অসাধারণ কাজ করিনি, যাতে এতো বড় একটা সম্মান পেতে পারি।

বরং আমি আমি আমার কিছু জুনিয়র কলিগের কথা ভাবছিলাম, কিছু বন্ধু, কিছু সিনিয়রের কথা ভাবছিলাম। যারা নিজের নিজের পত্রিকা, টেলিভিশন বা অনলাইনের জন্য অসামান্য কাজ করে চলেছেন। এদের একটা বড় অংশ ঘন্টার পর ঘন্টা মাঠে কাটিয়ে দেয় শুধু মাত্র ছোট্ট একটা খবরের জন্য অথবচা সামান্য একটা বাইটের জন্য। আমি অনুভব করেছি, এদের আগে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এমনকি ২১ সেপ্টেম্বর যখন আমি পুরষ্কার নিতে মঞ্চে উঠছি, তখনও একই অনুভূতি কাজ করেছে আমার মনে।

অবশ্যই আমি জুরিদের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে এই সম্মানটা দিয়েছেন যে, আমি এখনও সেই রিপোর্টারদের একজন; যদিও আমার দায়িত্ব এখন আমাকে মাঠের চেয়ে অনেকটাই ডেস্কে আটকে ফেলেছে।

একটা সময় ছিলো যখন বাংলাদেশের প্রায় সব খেলাধুলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ভিত্তিক ছিলো।  ১৯৯৮ সাল থেকে একজন বিএসপিএ সদস্য হওয়ায় আমি সেই সময় থেকে ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলা কাভারের ক্ষেত্রে এই সংগঠনের সব ফ্যাসিলিটিস ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছি। এই সুবিধা ও সুযোগ আমাকে একজন সাংবাদিক হিসেবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করেছে এবং ক্যারিয়ারে একটা বড় ধাপ অতিক্রম করতে পেরেছি আমি।

এই জীবনে অনেক অসাধারণ ঘটনা আমাদের আশীর্বাদ হয়ে আসে। যখন আমার প্রথম সন্তান এই পৃথিবীতে এলো, আমি ভেবেছিলাম, এর চেয়ে সুন্দর অনুভূতি আর হবে না। এরপর আমি জমজ সন্তানের পিতা হলাম। আমি বলবো না যে, একটি জাগতিক পুরষ্কার আমার ওই মহাজাগতিক পুরষ্কারগুলোর চেয়ে বড় হয়ে গেছে। তবে বিএসপিএ-এর এই পুরষ্কার পাওয়াকে আমি আমার পেশাদার জীবনের শ্রেষ্ঠতম মুহুর্তগুলোর একটি বলে বিবেচনা করি। প্রথমত এটা আমার ২০ বছরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। দ্বিতীয়ত এই পুরষ্কারটা এসেছে আমার সতীর্থদের হাত থেকে, যারা সবসময় যে কারো কাজ বিচার করার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন। এই পুরষ্কারটার আরেকটা বড় ব্যাপার হলো, প্রথমবারেই এটা আমি হাতে তুললাম। আমি জানি, এরপর অনেকে, অনেকে এই পুরষ্কার পাবেন। তবে আমি এই বিবেচনায় প্রথমই থেকে যাবো।

আমার মতো একজন সাংবাদিক, যে কিনা এখনও ক্রীড়া সাংবাদিকতার বেসিক শেখার চেষ্টা করে যাচ্ছে, তার জন্য এর চেয়ে বড় সম্মাননা আর হয় না। বিএসপিএ-কে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পরিচার ও বন্ধুদের কাছে এটা অন্তত প্রমাণ করার জন্য যে, আমি আমার কাজটা করতে পারছি। ধন্যবাদ, বিএসপিএ।

Share on your Facebook
Share this post