আকিবের শিক্ষা

আরিফুল ইসলাম রনি
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬
আকিবের শিক্ষা ।        আকিবের শিক্ষা ।

এইচপির পেসারদের সঙ্গে ৪ দিন, জাতীয় পেসারদের সঙ্গে ২ দিন…৬ দিনে কি শেখাবেন আকিব জাভেদ?

জাতীয় পেসারদের সঙ্গে ২ দিনের সেশন শেষে আজ আকিব বলেছেন, “আমার তো আর কিছুই শেয়ার করার বাকি নেই!”

আকিবের বক্তব্য পরিস্কার, ৬ দিন শেখানোর জন্য অনেক সময়। যদি ছাত্ররা সেটা ধারণ করতে পারে, সেগুলোর চর্চা করতে পারে, রপ্ত করতে পারে এবং প্রয়োজনের সময় মাঠে করে দেখাতে পারে।

এইচপির পেসারদের সঙ্গে কাজ করেছেন বেশির ভাগ মৌলিক ব্যাপারগুলো নিয়ে। জাতীয় পেসারদের সঙ্গে কথা বলেছেন ফাইনার পয়েন্টসগুলো নিয়ে। দুই গ্রুপের সঙ্গেই লম্বা সময় কথা বলেছেন পেস বোলিংয়ের মানসিক ব্যাপারগুলো নিয়ে। আজকেই আকিব হাসতে হাসতে বলছিলেন, “জাতীয় দলের পেসাররা যে টানা আড়াই ঘন্টা আমার কথা মন দিয়ে শুনেছে, এতেই আমি অভিভূত।”

বলার অপেক্ষা রাখে না, উপকার যতটুকু হবে বা হতে পারে, এইচপির পেসারদেরই বেশি হবে হয়ত। রবি ফাস্ট বোলিং হান্টের দ্রুততম বোলার এবাদত হোসেনের কথাই ধরুণ। বিমানবাহিনীর চাকুরে এই ছেলেটিকে আকিব বলেছেন, “তুমি তো একটা জিনিয়াস, এই শরীর নিয়ে এত জোরে বল করতে পারো!” এখন বুঝুন, দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো ও একসময় বিশ্বরেকর্ড গড়া একজন সাবেক পেসার, এখন বিশ্বের সেরা পেস বোলিং কোচদের একজন যখন কাউকে এমন কথা বলেন, তার তো মূহুর্তেই শিনা চওড়া হয়ে যাওয়ার কথা। নিশ্চিত থাকতে পারেন, পেসার হান্টের পর থেকে যে স্বপ্ন একটু একটু করে দেখছেন এবাদত, সেই স্বপ্নের সীমানা এক লহমায় অনেক বড় হয়ে গেছে!

ব্যাপারগুলো এভাবেই দেখতে হবে। ৬ দিনে আকিব এমন কোনো হাতি-ঘোড়া শিখিয়ে ফেলেনি বা একেকজনকে পেস বোলিংয়ের জাহাজ বানিয়ে ছাড়েননি। কিন্তু একটা অনুপ্রেরণা কথা বা ছোট্ট একটা টিপস, কিংবা একটা ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সেটা টেকনিক্যাল হতে পারে বা মানসিকতার...অনেক সময় অনেককে বদলে দেয়। এই যে এইচপির ১৭ জন পেসারকে নিয়ে কাজ করলেন, ভবিষ্যতে এখান থেকে একজনও যদি শিক্ষাটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজে লাগায়, সেটাও কিন্তু অনেক।

নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা, কোচিংয়ে পুঁথিগত বিদ্যা ও কোচিংয়ে অভিজ্ঞতা মিলিয়ে পেস বোলিং নিয়ে তার জ্ঞান নিয়ে সংশয় নেই। আজকে প্রেস কনফারেন্সেই যেমন, প্রথমে একটা নিরীহ প্রশ্ন করে বিপদে পড়ে গেলাম। ক্রিকেটারদের যেভাবে বুঝিয়েছেন, সাংবাদিকদেরও সেভাবে পেস বোলিংয়ে টেকনিক্যাল ও মেন্টাল অ্যাসপেক্ট নিয়ে একদমে ঝাড়া মিনিট দশেক লেকচার দিয়ে দিলেন। মুগ্ধ হয়ে শুনলাম।

আরও অনেক কাজের কথা বলেছেন। যেমন আবুল হাসান রাজুর মানসিক বাধার সমস্যা। এবাদত হোসেনের চাকরি। ক্যাম্প শেষে এয়ারফোর্সের নিয়মিত চাকরিতে ফিরে গেলে এবাদতের প্র্যাকটিসের কি হবে? ছেলেটার নিয়মিত অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছেন।

বিসিবি তাকে আবার কয়েকদিনের জন্য চায়, ২-৩ মাস পর। আকিবের কথা, এবার ছেলেদের যা শিখিয়ে গেলেন, সেসব যদি তারা রপ্ত করতে পারে, তবেই আবার নতুন কিছু শেখাতে আসবেন। কিছু শেখানোর থাকলেই কেবল আসবেন, নইলে নয়! বলে গেছেন, ছেলেদের অগ্রগতির খোঁজখবর নেবেন, ভিডিও আপডেট দেখবেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটি বলেছেন, আমাদের স্থানীয় কোচদের সঙ্গেও পেস বোলিং নিয়ে কথা বলেছেন। স্থানীয় কোচদের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, এই কোচদের আরও দক্ষ করে তুলতে এবং কাজে লাগাতে। তার প্রশ্ন, “আর কতদিন তোমরা বিদেশী কোচদের দিকে তাকিয়ে থাকবে?”

আমার মনে পড়ল কুমার সাঙ্গাকারার কথা। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিটি প্রশ্নে কয়েক মিনিট ধরে বিশাল উত্তর দিতেন, কিন্তু শুনতে দারুণ লাগত। সাঙ্গাকারার প্রেস কনফারেন্স ছিল ব্যাটিং আর ক্রিকেট শিক্ষা, ক্রিকেট দর্শনের শিক্ষা। আকিবের প্রেস কনফারেন্সও হয়ে থাকল পেস বোলিং, ক্রিকেট দর্শন, বোধ ও ভাবনার শিক্ষা!

Share on your Facebook
Share this post