আমাদের কলেজের সেই রাব্বি

নাজমুল হাসান নাঈম
অক্টোবর ১৭, ২০১৬
 বরিশালের ছেলে কামরুল ইসলাম রাব্বি। বরিশালের ছেলে কামরুল ইসলাম রাব্বি।

সদ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দেওয়া টেষ্ট স্কোয়াডে ফাষ্ট বোলার হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন বরিশালের কামরুল ইসলাম রাব্বি। এর আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজে দলে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে আমাদের দেশে সীমিত সুযোগের মধ্যেও ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগ শেষে মাশরাফি একটা স্বাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, রাব্বির চেষ্টাই তার চোখে পড়েছে বেশি। বোলিংয়ে টেস্ট মেজাজ আছে।

রাব্বির সবচেয়ে বড় গুন পুরানো বলে জোরের ওপর বল করতে পারা। আমাদের দেশে যে মরা পিচ হয়, তাতে মুস্তাফিজের মতো এক্সট্রা অর্ডিনারি না হলে কিছু করে দেখানো প্রায় অসম্ভব। তবুও রাব্বিরা ফাষ্ট বোলার হন, কিছু করে দেখানোর ব্রত নিয়ে। দীর্ঘদিন ধারাবাহিকতা দেখানোর পুরস্কার হিসেবে শহীদের ইনজুরিতে রাব্বির জন্য সুযোগটা এলো। এই সুযোগটা অবশ্য ওনার প্রাপ্যও। হয়তো শহীদ পরিপূর্ণ সুস্থ থাকলেও রাব্বি সুযোগটা পেতেন।

যে স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে তাতে একটা বিষয় পরিস্কার, হয় বাংলাদেশ একদম ফ্ল্যাট ট্র্যাক বানিয়ে ড্র’র জন্য নামবে (সেটার সম্ভাবনাই বেশি), আর না হয় ভারতের নাগপুরের মতো টার্নিং ট্র্যাকে নামবে। যেই জিতুক, আমি শেষের উইকেটের পক্ষে। এখন এইধরনের উইকেটে ফাষ্ট বোলারদের কাছে কিছু অতিরিক্ত আশা করা উচ্চাশার সমান, কিছুটা বোকামিও। রাব্বির কাছে তাই তেমন কোনো প্রত্যাশা নেই। সে তার মেধা অনুযায়ী যতটা সম্ভব ভালো করুক, এটাই ক্রীড়ামোদী হিসেবে প্রত্যাশা।

কামরুল বরিশালের সন্তান। একই জেলায় বাড়ি বলে তার প্রতি সূক্ষ্ম একটা পক্ষপাত আমার রয়েছে। আমি দীর্ঘদিন তার ঘরোয়া ক্রিকেটের পার্ফমেন্স খোঁজ খবর রেখেছি। প্রায় সবসময়ই আশা করেছি, সে দলে আসুক। সে বরিশালের সন্তান, এই পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয় হলো সে আমার একই কলেজের ছাত্র। আমরা একই ব্যাচের। সে বিজ্ঞান বিভাগের, আমি ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের। হয়তো কলেজ মাঠে একসাথে দুই একম্যাচ খেলেছিও। তাই বন্ধুর প্রতি শুভকামনাটা একটু বেশিই। বিধ্বংসী এক স্পেলে ইংলিশ দম্ভ সে চূর্ণ করুক, অভিষেক ম্যাচেই স্বপ্নের এক অভিষেক সে ঘটাক।

কামরুল ইসলাম রাব্বি, আল্লাহ তোমার স্বপ্ন পূরণ করুক। সাথে সাথে আমাদেরও গর্বের জায়গাটা আরেকটু বাড়িয়ে দিক। ভালোবাসা বন্ধু।

Share on your Facebook
Share this post