এই তামিম, সেই তামিম

তামিম সোয়াইব
মার্চ ২৬, ২০১৭
তামিম ইকবালে স্বপ্ন দেখি। তামিম ইকবালে স্বপ্ন দেখি।

২০০৪ কী ২০০৫ সালের কথা। ক্লাস ফাইভ বা সিক্সে পড়ি। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তুমুল আকর্ষণ থাকায় খেলা দেখতে এবং খেলার খোঁজ খবর রাখতে দারুণ পছন্দ করতাম।

তাই স্বাভাবিক ভাবেই বাসায় রাখা পত্রিকার খেলার পাতাটা খুটিয়ে খুটিয়ে পড়তাম। একদিন পড়তে গিয়ে হঠাৎ একটা খবরে চোখ আটকালো। ঠিক মনে নেই যদিও তবে মনে হয় দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কোন একটি ম্যাচে তামিম নামে কেউ একজন ৫২ রান করেছে এরকম একটা কিছু দেখলাম।

আমার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো। একে তো ক্রিকেট দারুন পছন্দ করি তারপর যদি আবার নিজের নামে কেউ খেলে তাহলে তো কথাই নেই। সত্যি বলতে সেদিন থেকে অপেক্ষা শুরু করি কবে জাতীয় দলে চান্স পাবে আমার ‘মিতা’ এবং আমি তার খেলা দেখবো।

এরপর আনেক দিন কেটে গেছে।  এসম্পর্কিত আর কোন কিছু চোখে পড়েনি। তবে আগ্রহ যে কমে গেছে তা একদম নয়। এতকিছু বুঝতাম না চান্স পাওয়ার হিসাব কিন্ত কেন যেন মনে হত আমার অপেক্ষা ফুরোবে।

২০০৬ সালের শেষের দিকে একদিন বিটিভির রাত ১০ টার ইংরেজি সংবাদ দেখছি। সম্ভবত প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের সেদিনের খেলার ফলাফল দেখাচ্ছিলো। দেখালাম তামিম নামে একজন ১৮৮ করেছে। আমি বুঝতে পারলাম আমার আপেক্ষার দিন খুব সহসাই ফুরোবে।

১৭ মার্চ, ২০০৭। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। ভারত আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে ১৯২ রানের টার্গেট দিলো। হয়তো কম বোঝার কারণেই স্কোয়াডে কে আছে কে নেই সেটা খেয়াল করা হয়নি আমার।

দেখলাম চিকনা গড়ন এবং পজিটিভ বডি ল্যাংগুজের একটা ছেলে শাহরিয়ার নাফীসের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নামলো। ছেলেটির নাম তামিম ইকবাল খান। প্রথম দিনই সে জহির খান, হরভজন সিংদের পিটিয়ে সারা বিশ্বের সঙ্গে আমারও মন জয় করে নিলো। আমার অপেক্ষা সার্থক হলো।

এরপর ২০১০ সালে মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি, লডর্স, ওল্ড ট্রাফের্ডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি কিংবা ২০১২ সালের এশিয়া কাপে সমালোচনার জবাব দেওয়া টানা চার হাফ সেঞ্চুরি শুধু মুগ্ধতাই বাড়িয়েছে।

গত দশ বছরে তিনি কখনো আমাকে আনন্দে ভাসিয়েছেন কখনো বা করেছেন হতাশ কিন্তু কখনোই তার প্রতি আমার আগ্রহ কমেনি এতটুকু। অনেকের কাছে তর্কসাপেক্ষে দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হলেও আমার কাছে তিনি কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই সবসময়ের সেরা।

যখন এই লেখাটা লিখছি তখন তিনি দেশের হয়ে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সব ধরণের ক্রিকেট মিলিয়ে দশ হাজার রানের মলিক হয়েছেন। নিশ্চই বড় অর্জন। তবে আমি বিশ্বাস করি তিনি এর চেয়ে আনেক বড় কিছু করার সামর্থ্য রাখেন। আর তিনি তা পারবেন এই বিশ্বাসও আমি রাখি।

প্রিয় ‘মিতা’ আপনি স্বপ্ন দেখেন ‘এক ইনিংসে একাই ৪০০-৫০০ রান করে ফেলার’ আপনি স্বপ্ন দেখেন, ‘দলের প্রয়োজন দুই ওভারে ৬০ রান এবং সেই ম্যাচ আপনি জিতিয়ে দিয়েছেন’ স্বপ্নগুলো অনেকের কাছে অবাস্তব মনে হলেও আমার কেন যেন মনে হয় আপনি এগুলোও পারবেন। আপনার স্বপ্নগুলো সত্যি হোক এই কামনা করি।

Share on your Facebook
Share this post