অভাবনীয়, রোমাঞ্চকর, শিহরণজাগানিয়া...

আরিফুল ইসলাম রনি
ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৭
 শ্রীলঙ্কা সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার শেষ টি-টোয়েন্টি ২২ ফেব্রুয়ারি অ্যাডিলেডে। পর দিনই পুনেতে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট।  শ্রীলঙ্কা সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার শেষ টি-টোয়েন্টি ২২ ফেব্রুয়ারি অ্যাডিলেডে। পর দিনই পুনেতে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট।

খেলা দেখতে পারিনি। তবে ওই বয়সেও পত্রিকায় পাতায় চোখ রাখতাম নিয়মিত। আর অবাক হতাম। একই টুর্নামেন্টে খেলছে অস্ট্রেলিয়ার দুটি দল!

সেটি বেনসন অ্যান্ড হেজেস ওয়ার্ল্ড সিরিজ। ১৯৯৪-৯৫ অ্যাশেজের মাঝামাঝি হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে চতুর্থ দল ছিল অস্ট্রেলিয়া ‘এ’। বিস্ময়ের জন্য সেটিই ছিল যথেষ্ট। তবে অস্ট্রেলিয়া বলে কথা। টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়া ‘এ’!

চ্যাম্পিয়ন শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলই হয়েছিল। যদিও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে অধিনায়ক মার্ক টেলর বেশ নাখোশ ছিলেন দুটি দল খেলানোর সিদ্ধান্তে। তবে দলের বাইরে সমালোচনার চেয়ে প্রশংসাই বেশি পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড। আমাদের মত পিচ্চিরা, অন্তত নিজের কথা বলতে পারি, যতটুকু মনে আছে, দুটি দল খেলানোর ওই ভাবনাতেই যার পর নাই বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়েছিলাম।

মনে আছে, সেই টুর্নামেন্টেই প্রথম রিকি পন্টিং আর গ্রেগ ব্লিউয়েটের নাম জেনেছিলাম। ব্লিউয়েট তো এই টুর্নামেন্ট খেলার কদিন পর ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে সেঞ্চুরি করে তাক লাগিয়ে দিলেন। সেই অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের অধিনায়ক ছিলেন ডেমিয়েন মাটিন। খেলেছিলেন ম্যাথু হেইডেন, মাইকেল বেভান, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, পল রাইফেল, ড্যারেন লেম্যানরা।

এতদিন পর সেই স্মৃতি মনে হলো, কারণ অস্ট্রেলিয়ার দুটি দল এখন খেলছে দেশে। আজ মেলবোর্নে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামছে অ্যারন ফিঞ্চের নেতৃত্বে একটি দল। আর স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বে টেস্ট দল এখন ভারতে। আজকেই মুম্বাইয়ে খেলছে ট্যুর ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়া বলেই ভাবনাটায় অবাক হইনি।

এই শ্রীলঙ্কা সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার শেষ টি-টোয়েন্টি ২২ ফেব্রুয়ারি অ্যাডিলেডে। পর দিনই পুনেতে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট।

তবে এর চেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাও আছে। টি-টোয়েন্টি নয়, একই সঙ্গে দুটি দেশে টেস্ট খেলেছে ইংল্যান্ডের দুটি দল! সেটি ৮৭ বছর আগের কথা।

ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে ১৯২৬ সালে আইসিসির (তখনকার ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্স) এক সভায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডকে পূর্ণ সদস্য করে নেওয়া হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্ট খেলে ১৯২৮ সালে। শুরুটা হয়েছিল বেশ বাজে। নিউজিল্যান্ড ১৯২৯ সাল পর্যন্ত খেলার সুযোগই পায়নি। এই দুটি দেশকে ক্রিকেটে এগিয়ে নিতে ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের দু’টি দলকে দুই জায়গায় পাঠায় এমসিসি।

১৯৩০ সালের ১১ জানুয়ারি, অভূতপূর্ব এক ঘটনার স্বাক্ষী হলো ক্রিকেট। ইংল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসের দু’টি ধারা প্রথমবার একই দিনে প্রবাহিত হলো দুটি শহরে। ৮৭০০ মাইল ব্যবধানের ক্রাইস্টচার্চ আর ব্রিজটাউন, একই সঙ্গে দুই জায়গায় টেস্ট খেলল একই দেশ!

তবে একই তারিখে হলেও নিউজিল্যান্ড আর ক্যারিবিয়ানের সময়ের ব্যবধান, বৃষ্টি ও রেস্ট ডে মিলিয়ে ঠিক একই সময় মাঠে থাকা হচ্ছিলো না ইংল্যান্ডের দুটি দলের। দুই সফরের পরের দিকে সেটিও হয়ে গেল। জর্জ টাউন টেস্ট আর অকল্যান্ড টেস্ট শুরু হয়েছিল একই তারিখে, ২১ ফেব্রুয়ারি। ক্যারিবিয়ানে প্রথম দিনের শেষ সেশন আর নিউ জিল্যান্ডে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের ঘন্টা দুয়েক খেলা চলল একই সময়ে। সেটির পুনরাবৃত্তি আর দেখেনি ক্রিকেট...

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওই সিরিজের শেষ টেস্টেই ৩২৫ ও ৫০ রান করেছিলেন অ্যান্ডি স্যান্ডহ্যাম। টেস্ট ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছিলেন প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। পরে নিয়মিত দুই ওপেনার স্যার জ্যাক হবস ও হার্বার্ট সাটক্লিফ ফেরায় স্যান্ডহ্যাম আর খেলার সুযোগই পাননি। দুই ইনিংসে ৩৭৫ রান করেও শেষ হয়ে গেছে তার ক্যারিয়ার।

একই দিনে না হোক, পর পর দুদিনে খেলা বা একই দেশের দুই দেশে খেলাটাও আধুনিক ক্রিকেটে অভাবনীয়। টি-টোয়েন্টি যদিও সেই শিহরণ জাগায় না। যে কোনো সময় যে কাউকেই খেলানো যায়। তার পরও পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ল, ইতিহাস ফিরে এলো। অস্ট্রেলিয়া কিছুটা হলেও উপহার দিল সেই রোমাঞ্চ!

Share on your Facebook
Share this post