মিডিয়া-সমর্থক বনাম বিসিবি

রাকিব কাওসার
অক্টোবর ১০, ২০১৬
এমনটা কি এবারই প্রথম হল? এমনটা কি এবারই প্রথম হল?

লেখাটার উপলক্ষ্য বা উদ্দেশ্য যা ছিল সেটা রোববার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের একাদশ দেখার পরই মিটমাট হয়ে গেছে। সমর্থকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নাসির হোসেন দলে জায়গা পাওয়ায় আমার মত অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। আর নাসিরও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পেরেছেন। ২৭ বলে ২৭ রানের অপরাজিত এক ইনিংস টাইট বোলিংয়ে মাত্র ২৯ রান দিয়ে পান এক উইকেট।

কিন্তু, এমনটা কি এবারই প্রথম হল?

না, নাসিরের এই ঘটনাই প্রথম নয়। এর আগেও মিডিয়া আর সমর্থকদের চাপে বিসিবি দলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছিল। সম্পুর্নভাবেই আমার স্মৃতির পাতা থেকে এরকম কয়েকটা ঘটনা আপনাদের বলছি...

১. ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পর সবাই বিস্মিত হয়ে উঠেন। দলে নেই টেকনিক্যালি বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু!

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়। অনেক জায়গায় এ নিয়ে প্রতিবাদও করা হয়। আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, নিয়মিত খেলার খোজ রাখতাম। আমার স্পষ্ট মনে আছে, ময়মনসিংহ শহরের গাঙ্গিনারপারে স্টেশন রোডের মোড়ে আমি কয়েকজন যুবক বয়সী বড় ভাইকে নান্নুকে দল থেকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে হাতে লেখা প্লে কার্ড নিয়ে ছোটখাট একটা জটলা করতে দেখেছিলাম। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর নান্নু বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছিলেন।

আর বাকিটা ইতিহাস না বলে দিলেও চলে। বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের কারিগর তো এই নান্নুই। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয় আসে এই নান্নু’র হাত ধরেই। এখনো চোখে ভাসে, প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ যখন ২৬ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধুকছিল, তখন নান্নু ঠান্ডা মাথায় ৬৮ রানের ইনিংস খেলে দলের রান ১৮০ পাড় করতে মূল ভুমিকা রাখেন। পরে বোলিংয়ে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে দুই উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন। আর পরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৩ রানের আরেকটি ঝকঝকে ইনিংস উপহার দিয়েছিলান এই নান্নু’ই।

২. এবার বলছি ২০০০ সালের ঘটনা। বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের জন্য যখন দল ঘোষণা করে বোর্ড। আরেকবার হতবাক হতে হয় ক্রিকেট সমর্থকদের। দলে নেই হাবিবুল বাশার সুমনের মত ব্যাটসম্যান। আবারও সমর্থক আর মিডিয়ার রোষানলে পড়ে বিসিবি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আর বিতর্ক এড়াতে বিসিবি লাল দল আর সবুজ দল নামে দুটি একাদশ গঠন করে একটা তিন কি চার দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করে। সে ম্যাচে ৮৪ রানের ঝঁকঝকে ইনিংস খেলে হাবিবুল বাশার দলে জায়গা করে নেন।

সেখান থেকে শুরু করেন হাবিবুল বাশার সুমন। কয়েকবছর যেতে না যেতেই তিনি হয়ে যান টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান। ৫০ টেস্টে তিন হাজারের ওপর রান, ৩০-এর ওপর গড়, তিনটি সেঞ্চুরি আর ২৪ টি হাফ সেঞ্চুরি - এসব তো আর চাট্টিখানি কথা নয়।

৩. বাঁ-হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক কমিটি ওয়ানডে স্পেশালিস্ট  আখ্যা দিয়ে টেস্ট দলের বাইরে রেখেছিলেন অনেক দিন। তার জায়গায় অনেকদিন খেলে গেছেন অধুনা আম্পায়ার বনে যাওয়া এনামুল হক মনি।

অনেক লেখালেখি আর সমালোচনা’র পর রফিক টেস্ট দলে ফেরেন সম্ভবত দক্ষিন আফ্রিকা সফরে। অভিষেক টেস্টের পর সেটা ছিল তার দু’বছর পর টেস্ট দলে ফেরা। এরপর তিনি প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্টে ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন। সেসময় তিনি গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই অন্যতম সেরা বাঁ-হাতি স্পিনারদের অন্যতম বলে বিবেচিত হতেন।

[শিরোনামটা দেওয়ার আগে অনেকক্ষণ চিন্তা করেছি। তারপরও ঠিক জানিনা শিরোনামটা লেখার সাথে খাপ খাচ্ছে কি’না।]

Share this post