‘বিরাট’ এক ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠছেন কোহলি

আরিফুল ইসলাম রনি
ফেব্রুয়ারী ৮, ২০১৭
  মুগ্ধতা শুধু ব্যাটিংয়েই থেমে থাকেনি।  মুগ্ধতা শুধু ব্যাটিংয়েই থেমে থাকেনি।

২০১০ সালের জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল ভারত। একদিন মিরপুরে ভারতের প্র্যাকটিস। ইনডোরের নেটে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে এম এস ধোনির ব্যাটিং দেখছিলাম। নেট সেশন শেষে যখন মূল মাঠে ঢুকছিলেন ধোনি, গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আজকে প্রেস কনফারেন্সে কে আসবে?’

ধোনি তাকিয়ে বললেন, ‘বিরাট উইল স্পিক টুডে, ইনফ্রন্ট অব দা ড্রেসিং রুম...।’ ভীষণ বিরক্ত হয়েছিলাম। আমাদের চাওয়া ছিল কোনো ‘স্টার’ ক্রিকেটার। স্টোরি যাতে জমজমাট হয়। বিরাট কোহলি নামের নতুন ছোকড়াকে নিয়ে কি লিখব!

সেই বিরক্তি মুগ্ধতায় বদলে যেতে সময় খুব বেশি লাগেনি। ওই সিরিজেই টানা ৩ ম্যাচে কোহলি করেছিলেন ৯১, ৭১*, ১০২*। ক্রমে আরও বেড়েছে রান, বেড়েছে সেঞ্চুরি। বেড়েছে মুগ্ধতা।

মুগ্ধতা শুধু ব্যাটিংয়েই থেমে থাকেনি। তার অ্যাটিটিউড, আগ্রাসী শরীরী ভাষা দেখে মুদ্ধ হয়েছি সেই কবেই। দলের জন্য, ক্রিকেটের জন্য প্যাশন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তার ওয়ার্ক এথিক, পরিশ্রম, ধরণ-দর্শন, ক্রিকেটের জন্য ত্যাগ, ক্রিকেটের প্রতি নিবেদন... টুকটাক যা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, আরও অনেক বেশি যা পড়েছি, জেনেছি... বিস্ময় আর মুগ্ধতা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়েছে।

ব্যাটিং দিয়ে তো নিত্যই ছুঁইছেন নতুন উচ্চতা। নেতৃত্বের একদম শুরুর দিনটি থেকেই নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেছেন। অধিনায়কদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটিই আমি ব্যক্তিগত ভাবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখি। নিজের ছাপ রাখা। ভারতে এই দল এখন সব দিক থেকেই কোহলির দল।

সময়ের সঙ্গে ম্যাচিউরড হয়েছেন। কথায়, ধরণে সেটার প্রতিফলন পড়েছে। আজকে রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে প্রেস কনফারেন্সে পুরো সময়টায় যেভাবে বাংলাদেশর হয়ে ব্যাট করে গেলেন, সেটি দেখে বলতে বাধ্য হচ্ছি, মুগ্ধতা এবার এভারেস্ট ছুঁয়েছে! কোহলির কিছু কথা তুলে দিচ্ছি...

‘আমার তো মনে হয় ওদের স্কিল যথেষ্টই আছে। সমস্যা হলো খুব বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ ওরা পাচ্ছে না। টেস্ট স্কোয়াড হিসেবে আত্মবিশ্বসটাও তাই অজূন করতে পারছে না। খুবই মৌলিক ব্যাপার এটা। ওয়ানডেতে ওরা এত ভালো দল হয়ে উঠেছে কারণ প্রচুর ওয়ানডে খেলেছে। নিয়মিত খেলে। ওয়ানডেতে ওরা সব দলকেই হারিয়েছে কারণ জানে এই ফরম্যাট কিভাবে খেলতে হয়। টেস্ট ক্রিকেট খুব বেশি না খেললে কখনোই মাইন্ডসেট বোঝা যায় না।’

‘অনুশীলন যতোই করুন, ম্যাচ খেলা সবসময়ই ভিন্ন ব্যাপার। সামর্থ্য ওদের আছেই। কিন্তু মাইন্ডসেট একেক ফরম্যাটে একেকরকম থাকতে হয়। যত বেশি টেস্ট খেলবে, ততই ওরা এসব বুঝতে পারবে। আমি নিশ্চিত, আরও বেশি খেলার সুযোগ পেলে ওরাও দারুণ টেস্ট ক্রিকেটার হয়ে উঠবে, দারুণ দল হয়ে উঠবে।’

‘আমার মনে হয়, ওদের এই দিকটা সবার আরও তুলে ধরা উচিত। এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার স্কিল ওদের অবশ্যই আছে। স্রেফ যত বেশি খেলার সুযোগ পাবে, ততই ভালো হতে থাকবে। যেটা বলেছি, ওদের স্কিল এত ভালো যে প্রতিপক্ষ হিসেবে আমি চিন্তিত। দারুণ প্রতিভাবান ওরা। আমরা মনোযোগ দিচ্ছি দল হিসেবে ওদের বিপক্ষে কতটা কী করতে পারি।’

‘নিউ জিল্যান্ডে ওরা দারুণ ব্যাট করেছে। একদিনে সাড়ে তিনশর বেশি রান করা অসাধারণ ব্যাপার। দিন জুড়ে সাড়ে চার করে রান তোলা মানে স্পেশাল কিছু। কোয়ালিটি ক্রিকেটার অনেক আছে ওদের। কোন দিক থেকেই ওদেরকে হালকা করে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

‘মাত্র কদিন আগেই আমি জানতে পেরেছি ওরা ভারতে খুব বেশি আসতে পারেনি। আমরা বাংলাদেশে অনেক বেশ কবার গিয়েছি কিন্তু এবারের আগে ওরা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আসেনি। সেদিক থেকে অবশ্যই এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শুধু দুই দলের জন্য নয়, দুই দেশের জন্যও।’

‘আমি আশা করব এটি আরও বেশি হবে। আমরা অনেক অনেক বার ওদের দেশে গিয়েছি, ওদেরও এখানে আরও বেশি আসার সুযোগ পাওয়া উচিত। ভারতে এসে খেলতে পারাটা ওদের জন্যও দারুণ হবে। কারণ ক্রিকেটের জন্য ভারত দারুণ জায়গা। ওরা উপভোগ করবে।’

‘ভারতে দু’দলের সিরিজ আরও বেশি হওয়া উচিত। এটি বিশেষ একটি মুহূর্ত। ঘটনাক্রমে আমি অধিনায়ক হিসেবে পাচ্ছি এই ম্যাচ। কিন্তু দিনটি অবশ্যই হতে যাচ্ছে স্পেশাল।’

ব্যাটসম্যান ছিলেন। অধিনায়ক হয়েছেন। নেতাও হয়ে গেছেন। কোহলি এখন দারুণ এক ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠছেন! সত্যিকার অর্থেই একজন মুগ্ধকর!

Share on your Facebook
Share this post