সে আরেক মাশরাফির গল্প

মিজানুর রহমান আরিয়ান
অক্টোবর ৫, ২০১৬
  আজকে আমার দুই গুরুর জন্মদিন  আজকে আমার দুই গুরুর জন্মদিন

আমার গুরু ‘মাসরাফি’

এ আরেক মাশরাফির গল্প

সেই ছেলেটার কথা কেউ মনে রাখবেনা। ২০০৬ সালে অমিতের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। দুজনই ক্রিকেট পাগলা।বিকালে দিকে আম্মুকে ফাঁকি দিয়ে, প্রতিদিন ক্রিকেট খেলতে যেতাম। অমিত আসতো। দুজনই ভাল ক্রিকেট খেলতাম।একটা সময় স্বপ্ন দেখতাম ক্রিকেটার হইবো। ওর বাসা থেকে রাজি ছিল।

কোচ আমাদের ডেকে পাঠালেন। অমিত কে জিঙ্গেস করলেন? তোর প্রিয় ক্রিকেটার কে?

অমিত মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা বলে দিল। কোচ অমিত কে ব্যাটসম্যান থেকে বল করতে পাঠালো। ওই থেকে সে হয়ে গেল- ম্যাশ।

আমি ওরে মাশরাফি বলে ডাকতাম। ও খুশি হইতো।

৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হওয়ার সময়। ফর্মপুরন করে আমি জমা দিয়েদিয়েছি। অমিত একটু পরে আসলো। আমাকে ফর্মপুরন করতে দিল। আমার হাতের লেখা পরিষ্কার ছিল বলে। ওরে মাশরাফি বলতে বলতে ফর্মপুরন করার সময় মাসরাফিই লিখে ফেললাম। অমিত লেখাটা দেখে হেসে বলল। কাটাকাটি করবিনা। যা লিখছিস তাই। পুরোটা লিখ- মাসরাফি বিন মুর্তজা ।

সেই থেকে অমিতের নাম হয়ে গেল- মাসরাফি বিন মুর্তজা। ওরে স্কুলের সবাই ওইদিন থেকে মাসরাফি বলে ডাকতো। ওর বইয়ের প্রথম পৃষ্টায় লিখা থাকতো এমন করে। Mashrafe Bin Mortaza ( গুরু ) ক্লাস মেইট রা অনেকেই গুরু বলে ডাকতো।

প্রাইভেট স্যারও অমিত কে গুরু বলে ডাকতো।

এক বৃষ্টি রাতে বাসা থেকে পালিয়ে গেলাম। কাউকে না বলে উদেশ্য বাংলাদেশের খেলা দেখা।দুজনের কাছে টাকা আছে। টিকেট কাটতে গেলাম। কিন্তু কোনো কারন বসত আমাদের টাকা হাঁরিয়ে বা চুরি হয়েযায়। তখনি দেখি আমাদের এলাকার এমদাত ভাই। দৌড়াইয়্যা তাঁরে গিয়া সব বলি। উনি আমাদের টাকা দেন, টিকেট কিনে। ওনার সাথে রাতে থেকে পরেরদিন খেলা দেখে বাসায়।

সেইদিন কি পিটানি। অমিত আর আমি মেলায় গেলাম। গিয়ে দেখি মাসরাফির পোষ্টার। দুজনই কিনলাম। অমিত বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ম্যাশের পোষ্টারে চুমু খেয়ে বের হতো আবার বাসায় ফিরে ম্যাশের পোষ্টারে চুমু খেতো।

অমিতের নাম অমিত সবাই ভুলেগেছে। তাঁর নাম মাসরাফি হয়েগেছে। আমি গুরু বলে ডাকি। ওর মাও গুরু বলে ডাকে, ওদের বাসায় গিয়ে আন্টি বলতাম গুরু বাসায় আছে। ওর মা ডেকে দিতো, ‘ওই গুরু, আরিয়ান আইছে ‘।

আমাদের দেখা হয় সত্যিকাররের গুরুর সাথে যেই গুরু আজকের ১৭ মানুষের কোটির পাগলা গুরু ম্যাশের সাথে। অনেক মানুষ। অমিত ছুটল আমিও ছুটলাম। ম্যাশ চলে যাবে অমন সময় ডেকে দাঁড়করালাম। অটোগ্রাফের জন্যে ডায়েরি দিলাম। ম্যাশ অটোগ্রাফ দিয়ে চলে গেছেন।

তবুও তাঁকিয়ে আছি। অপলক দৃষ্টিতে।

কাকতালীয় ভাবে অমিতের জন্মদিন ৫/১০/১৯৯৭। ওর বার্থডে তে আমি ওরে মাসরাফি জার্সি গিফট করেছিলাম; শেষবার যখন ও বেঁচেছিল।

হ্যা, অমিত আর বেচে নেই।

অমিত চুলের স্টাইল, দৌড়ের স্টাইল, বল স্টাইল সব কপি করতে পারতো। অমিত তো ‘অমিত’ ছিলো না; ম্যাশ ছিলো, গুরু ছিলো। পুরোটা জীবন তাঁর ম্যাশ ম্যাশ করে করে কাটিয়েছে। ম্যাশ কে ভালবেসে নিজের নাম বদলে ফেলেছে। ওর নিজের মা গুরু বলে ডাকতো। বন্ধুরা কেউ কেউ ম্যাশ গুরু।

আমার বন্ধু মাসরাফি কে ২০১২ সালের পর আর দেখা যায়নি। নভেম্বর ২১ তারিখে পৃথিবীর মায়া ছেঁড়ে চলে যায়। চিরকালের মত করে। কবরের পথে। গুরু খুন হয়।

আজকে আমার দুই গুরুর জন্মদিন। হ্যাপি বার্থডে মাসরাফি, হ্যাপি বার্থডে গুরু।

Share this post