সাকিব হবেন মিরাজ?

খেলাধুলা ডেস্ক
জুন ৯, ২০১৭
 নিজের স্বপ্নেই বেঁচে আছেন মিরাজ; স্বপ্ন দেখেন আকাশ ছোঁয়ার। নিজের স্বপ্নেই বেঁচে আছেন মিরাজ; স্বপ্ন দেখেন আকাশ ছোঁয়ার।

মাত্র বছরখানেক আগেও, সদ্য কৈশোর পেরোনো সেই ছেলেটি খেলছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে, তাও আবার এক ‘কঠোর পরিশ্রমী’ অধিনায়ক হিসেবে। সেই ছেলেটি যখন ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিল, তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না যে পরের বছরই জাতীয় দলের হয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ মিলবে তাঁর।

যার কথা বলা হচ্ছে, তিনি মেহেদি হাসান মিরাজ - বর্তমান বাংলাদেশ দলের অন্যতম প্রধান শক্তি, নবীন ক্রিকেটারদের মাঝে সবচেয়ে প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময়দের একজন। হয়তো আগামী দিনে তিনি সাকিব আল হাসানের মত, কিংবা তাঁর চেয়েও বড় অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কখনো ভেবেছিলেন কিনা যে বাংলাদেশের হয়ে এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ পাবেন, এই তরুণ তুর্কী স্বভাবসুলভ বিনয়ের সাথে জানান, এত বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তার কাছে অনেকটাই যেন স্বপ্ন সত্যি হবার মত একটা ঘটনা।

সদা হাস্যেজ্জ্বল মিরাজ বলেন, ‘আমি যেন একটা স্বপ্নের জগতে বাস করছি। আমার কখনো কল্পনায়ও ছিল না আমি একদিন বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলতে পারব। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তো নয়ই। কিন্তু আমি সবসময়ই এইসব ভেন্যুতে খেলতে চেয়েছি যেগুলো আমি আগে কেবল টিভিতেই দেখার সুযোগ পেয়েছি। যদিও আমি এর আগে একবার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ইংল্যান্ডে এসেছি, কিন্তু আপনি বুঝতেই পারছেন এটা একদমই ভিন্ন একটা অভিজ্ঞতা। দেখুন, এমনকি গত বছরও আমি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলছিলাম, এবং হঠাৎ করেই নাটকীয়ভাবে আমার জীবনে এত বড় একটা পরিবর্তন চলে এলো। কিন্তু হ্যাঁ, সেটা ভালোর দিকেই।’

তামিম ইকবাল বাদে দলের বাকি সব ব্যাটসম্যানরা যখন অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত বোলিং আক্রমনের বিপরীতে রীতিমত ধুঁকছিলেন, তখন এই ১৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার ১৪ রানের একটা সংগ্রামী ইনিংস খেলেন, এবং দলের বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের বুঝিয়ে দেন যে চেষ্টা করলে স্রোতের বিপরীতেও সাঁতরানো সম্ভব।

মিরাজের মতে, তার মধ্যে বেশ ভালোভাবেই ইনিংসটাকে আরও প্রলম্বিত করার মত আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু একটাই আফসোস, শুধু যদি ক্রিজের অপরপ্রান্তে তামিম ইকবাল আরও কিছুটা সময় থাকতেন।

মিরাজ দাবী করেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমার ইনিংসটি দেখে কি মনে হয়েছে আপনার? তারা খুবই জোরে বল করছিল, আর আমি আমার ক্যারিয়ারে আগে কখনো এত জোরের বল মোকাবেলা করিনি। কিন্তু তামিম ভাই যদি আরও কিছুটা সময় ক্রিজে থাকতেন, আমার আত্মবিশ্বাস ছিল আমি আরও লম্বা একটা ইনিংস খেলতে পারতাম। কারণ আমি নিজেও ক্রিজে শুরুর কঠিন সময়টা পার করে এসেছিলাম।’

খুলনার এই উদীয়মান ক্রিকেটারের রোল মডেল সাকিব আল হাসান, এবং তিনি জানান নিজের ব্যাটিংয়ে তিনি আরও উন্নতি করতে চান, কারণ বল হাতে অফ স্পিনে তিনি বর্তমানে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।

নিজের খেলা নিয়ে মিরাজের সরল আত্মোপলব্ধি, ‘আপনি হয়ত খেয়াল করে দেখবেন, সাকিব ভাই সবসময়ই নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেন। তা সেটা যখন তিনি ব্যাট করতেই যান, কিংবা বল করতে। আমার মনে হয় এটা তার একটা অসাধারণ গুণ যেটা আমি সবসময়ই অনুসরণের চেষ্টা করি, এবং তার কাছ থেকে এই বিষয়গুলো আরও ভালো করে শেখার চেষ্টা করি। আমি আমার বোলিং নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু এখন আমাকে আমার ব্যাটিং নিয়ে আরও অনেক পরিশ্রম করতে হবে। কেবল তবেই আমি একজন ভালো অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে পারব।’

যেহেতু তাদের ট্রেনিং সেশন প্রায় শেষ হয়ে আসছিল, মিরাজ তার ব্যাটিং ড্রিল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এবং অনুশীলন করতে করতেই বলে চলেন, ‘আপনি কখনোই জানেন না, আমরা হয়ত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েও দিতে পারি। এবং ভাগ্য যদি আমাদের সহায় থাকে, আমরা ঠিকই সেমিফাইনালেও উঠে যাব।’

এ কথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়, তরুণ এই ক্রিকেটারের মধ্যে যে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস এবং ভালো করার অদম্য স্পৃহা, তাতে তার নিজের অগ্রগতি তো হবেই, পাশাপাশি তাকে গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই একটা অমূল্য সম্পদে পরিণত করবে।

------------------

Miraz: I’m living my dream শিরোনামে লেখাটা প্রথম প্রকাশিত হয় ইংরেজি গণমাধ্যম ঢাকা ট্রিবিউনে। অনুবাদ করেছেন জান্নাতুল নাঈম পিয়াল।

Category : অনুবাদ
Share on your Facebook
Share this post