বোলাররাই হবেন তুরুপের তাস

রিজওয়ান রেহমান
মে ২৪, ২০১৭
 অভিজ্ঞ এই কোচের চোখে, কেমন করবে বাংলাদেশ?  অভিজ্ঞ এই কোচের চোখে, কেমন করবে বাংলাদেশ?

দরজায় কড়া নাড়ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি কিংবা ঘাড়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির তপ্ত নিঃশ্বাস, যেই বিশেষণেই বিশেষায়িত করি, এই বছরের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ইভেন্ট যে এখন কাউন্টডাউনের পালা ঘণ্টার কাঁটা অতিক্রম করছে, সেটি নিশ্চয়ই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়া লাগবে না। ১১ বছরের বিরতির পর, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দাগ কাটতে বাংলাদেশ দল ইতোমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে আয়োজক দেশ যুক্তরাজ্যে। ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টায় যে কোনো কমতি নেই, কন্ডিশনের সাথে খাপ খাওয়াতে মাসখানেক আগে ভেন্যুতে পৌঁছানো তার স্বপক্ষেই যুক্তি দেয়।

তা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি যতই হোক সুদূর বিলেতে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে চায়ের কাপে আলোচনার ঝড় ওঠা শুরু হয়ে গিয়েছে বেশ আগেই। এক ক্রিকেটবিষয়ক জার্নালে, তেমনই আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব তথা বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিম। অভিজ্ঞ এই কোচের চোখে, কেমন করবে বাংলাদেশ? কয়েক প্রশ্নে উত্তর দিয়েছেন তিনি।

বোলিং: সাফল্যের চাবি

সাফল্য পেতে বাংলাদেশের করণীয় কি, এমন প্রশ্নের বিপরীতে নাজমুল আবেদীনের উত্তর, ‘যেহেতু এটি একটি আইসিসি আয়োজিত ট্রফি, অন্যসব আইসিসি ইভেন্টের মতো ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই আশা করছি। সাধারণত যতটা ঘাস দেখে থাকি ইংল্যান্ডের উইকেটে, ততটা থাকবে না। তাই ৩০০-৩২০ ই গড় স্কোর হবে বলে মনে করি। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনআপের গভীরতা এবং ব্যাটসম্যানদের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে বলতে পারি, যেকোনো প্রতিপক্ষের সাথেই সেই রান তাড়া করার সামর্থ্য এই দলের রয়েছে।’

কিন্তু বিপক্ষকে এই রানের মাঝে আটকে রাখার ক্ষমতা কি বাংলাদেশ দলের বোলারদের রয়েছে, বিশেষত যেই উইকেটে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন না?

নাজমুল আবেদীন বিশ্লেষণ করেন, ‘এটা চ্যালেঞ্জিং। গ্রীষ্মের শুরুতে উইকেট থেকে স্পিনাররা তেমন কোনো সুবিধাই পাবেন না, তাই বেশিরভাগ বোলিংয়ের (৩০ ওভার, কখনো ৩৫ ওভারও হতে পারে) গুরুভার পেসারদেরই নেয়া লাগবে। আমাদের পেসাররা এত ওভার বল করে অভ্যস্ত নন, কেননা বিশ্বের এই প্রান্তে স্পিনাররাই ছড়ি ঘোরান। সাফল্য লাভের জন্য পেসারদের মানিয়ে নেয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশের বহু ক্রিকেটারের গুরুতুল্য কোচ সাফল্য লাভের কিছু উপায়ও বাতলে দেন তাঁর শিষ্যদের, ‘নতুন বলে মাশরাফি আর শফিউলের মতো সুইং বোলার খুব বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ইনিংসের মাঝামাঝি তাসকিন কিংবা রুবেলেরও সুযোগ রয়েছে ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের। মোস্তাফিজের ফর্ম আমাদের জন্য হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্ববহ। তার মতো একজন বোলারের উপর ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তেই নির্ভর করা যায়, যে কিনা একাই মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে, ডেথ ওভারে পুরোনো বলে তার বোলিংয়ের দিকে বাংলাদেশ তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে। তবুও বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপ সমৃদ্ধ দলগুলোর বিরুদ্ধে, ৩০০ রানের নিচে বেধে রাখার কাজটা তাদের জন্য সহজ হবে না মোটেই। বিশেষত, যেই উইকেটগুলোতে ব্যাটিং করা ঢের সহজ।’

আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্ব

‘যদিওবা আয়ারল্যান্ডে ইংল্যান্ডের চেয়ে ঠান্ডা কিঞ্চিৎ বেশি, তবুও এত বড় ইভেন্টের আগে এই সফরকে নাজমুল আবেদীন ফাহিম বড় সুযোগ বলেই মনে করেন। "সাসেক্সে ১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্পের পর আয়ারল্যান্ড সফর মাশরাফির দলের জন্য যথাযোগ্য প্রস্তুত’, নাজমুল আবেদীন বলেন।

কারণ হিসেবে তিনি যোগ করেন, ‘বছরের এই সময়ে আয়ারল্যান্ডে ঠান্ডা ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশি, উইকেটও একটু ড্যাম্প। ব্যাটসম্যানদের জন্য যা এক কঠিন পরীক্ষাই। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যখন তারা ইংল্যান্ডে যাবেন, ব্যাটিং তাদের কাছে অনেক সহজ মনে হবে।’

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তরুণদের ভূমিকা

‘অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে দল গড়া হয়েছে’ বলতে নির্বাচকেরা যেমনটা বুঝিয়ে থাকেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের ১৫ জনের স্কোয়াড ঠিক তেমনটাই। দলে একদিকে যেমন মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক-রিয়াদদের মতো অভিজ্ঞরা তাদের অভিজ্ঞতার ভান্ডার নিয়ে বসে আছেন, তেমনি আছেন কখনো জাতীয় দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফর না করা সাব্বির-মেহেদি-সৌম্যরা, যারা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের অমূল্য সম্পদ। ইংল্যান্ডের হাওয়া-জলে যাদের প্রথম এসাইনমেন্ট এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিই। তাদের অনভিজ্ঞতা ভোগাবে নাতো আবার!

তেমনটা আপনি ভেবে থাকলে নাজমুল আবেদীন অন্তত আপনার পক্ষে নেই। ‘এই পর্যায়ের ক্রিকেটে তারা বেশ কিছু দিন ধরেই খেলছেন। জাতীয় দলের হয়ে না হলেও, 'এ' দল কিংবা বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ইংল্যান্ডে খেলার অভিজ্ঞতা সবারই কম-বেশি রয়েছে। তাই কন্ডিশনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া কিংবা অনভিজ্ঞতাকে বড় করে দেখতে রাজি নই’, নাজমুল আবেদীন বলেন।

সেমিফাইনালের সম্ভাবনা

এক জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের গ্রুপে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া। মাত্র দু’টি দলই সুযোগ পাবে সেমির মঞ্চ রাঙানোর। নাজমুল আবেদীন মনে করেন, ‘বাংলাদেশ গত দুই বছর ধরে সীমিত ওভারের ক্রিকেট যথেষ্ট ভালো খেলছে। তবুও, ইংলিশ কন্ডিশন মাথায় রেখে, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে বহুলাংশে এগিয়ে। লাল-সবুজের জার্সিধারীদের জন্য সেমিফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করার সুযোগ খুবই সীমিত। কিন্তু, গত বিশ্বকাপে পরিস্থিতি অনেকাংশে এরকমই ছিলো এবং বাংলাদেশ সার্থকতার সাথে সে পরিস্থিতি উতড়ে গিয়েছে। তাই, আগাম কিছুই আপনি বলতে পারছেন না।’

শেষ কথার স্বপ্নেই যে তিনি তার শিষ্যদের দিকে তাকিয়ে, সেটা বোধহয় না বললেও চলছে।

- ক্রিকেটসকার.কম অবলম্বনে

Category : অনুবাদ
Share on your Facebook
Share this post