লজ্জা হয় না বিসিবি!

রিজওয়ান রেহমান
মে ১৩, ২০১৭
দ্বিতীয় বিভাগের পর এবার তৃতীয় বিভাগেও পক্ষপাতিত্ব! দ্বিতীয় বিভাগের পর এবার তৃতীয় বিভাগেও পক্ষপাতিত্ব!

বৃষ্টিজলে কাকভেজা ফুটবল ম্যাচ। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ চকচক করানোর জন্য বাক্যটা যথেষ্ট। ফুটবলপ্রেমীরা তো বহু আগেই মেনে দিয়েছেন, ‘বৃষ্টিস্নাত ফুটবল ম্যাচ যেন স্বর্গসুখ।’ কিন্তু ম্যাচটি ফুটবল না হয়ে ক্রিকেটের হলে! কল্পনাশক্তির সর্বোচ্চ প্রসারণ ঘটিয়েও ‘পাকা রাস্তায় পাড়ার ম্যাচ’-এর বেশি কিছু মাথায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে, যারা এগোচ্ছেন ক্রিকেটকে নতুন মাত্রা দেবার কথা ভেবে, তাদের ভাবনা এর চেয়ে প্রসারিত হবে, সেটাই স্বাভাবিক। সেই ভাবনা কাজে অনূদিত করতেই কিনা, প্রবল বর্ষণের মাঝেও বাংলাদেশে চললো ৩য় বিভাগ ক্রিকেট লিগের খেলা। গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে খেলা চলতেই পারে তা মাথায় রেখেই বলছি, আক্ষরিক অর্থেই তখন ‘প্রবল বর্ষণ’ হচ্ছিলো।

ঘটনা অতিসাম্প্রতিক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে চলছিলো বাড্ডা একতা সমাজ কল্যাণ সংঘ বনাম নবীন সংঘের তৃতীয় বিভাগের ম্যাচ প্রবল বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও। ব্যাটসম্যানদের নিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ম্যাচটি জোর করে খেলা হচ্ছিলো বাড্ডা একতা সমাজ কল্যাণ সংঘকে সুবিধা দিতেই। বাক্যটি বোধহয় বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী উপমহাদেশের দেশগুলোর ঘরোয়া ক্রিকেটের মুখোশ পুরোটাই খুলে দেয়।

এর কিছুদিন আগেই দ্বিতীয় বিভাগের ক্রিকেট ম্যাচে সাদা চোখে দৃশ্যমান বাজে আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদে সুজন নামের এক বোলারের চার বলে ৯২ রান বিলানোর ঘটনায় তুলকালাম বেধে যায়। 'সুজন দেশের নাম ডুবিয়েছে' এই যুক্তিতে তাকে ১০ বছর নিষিদ্ধ করা হয় এবং সমস্যার আপাত সমাধানও হয়। এবার কাকে দোষারোপ করবে বিসিবি!

এই ম্যাচের অনেক দৃশ্যই দেখা যায় মোবাইলে ধারণ করা ২৫ মিনিটের এক ভিডিওতে। বৃষ্টি শুরু হলে ম্যাচ পরিচালনাকারী আম্পায়ারদ্বয় খেলা বন্ধ করে কাভারের ডাক দেন। কিন্তু, সাইডবেঞ্চে হঠাৎ উদিত এক শক্তির জোরে কাভার আর মাঠে এসে পৌঁছায় নি বরং সেই বৃষ্টির মাঝেই আম্পায়ারদ্বয় ঘোষণা দিতে বাধ্য হন, 'খেলা চলবে'।

এককোণে বিরসবদনে এ সবই দেখছিলেন নবীন সংঘের সাধারণ সম্পাদক কাজী তবারকুল ইসলাম। তার কথাতেই জানা যায় শক্তিটি তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের সমন্বয়ক মুন্না মিরাজ। ম্যাচের আরো তথ্য পাওয়া যায় তার বর্ণনাতেই, ' ম্যাচে প্রথম যখন বৃষ্টি আসে বাড্ডার রান ১৮ ওভারে ৬২, পরে ম্যাচ ৪০ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। বাড্ডা ১৮২ করতে পারলে, আমরা যখন ব্যাটিংয়ে নামি ১.২ ওভার পরই বৃষ্টি নামে। কিন্তু আপনি জানেন, ২০ ওভার হওয়া বাধ্যতামূলক ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথড প্রয়োগের জন্য। আর সেজন্যই মাঠে কাভার আসে নি।'

মাঠে তখন ম্যাচ রেফারিও ছিলেন। ফুটবল ম্যাচ হলে, এমন সময় তিনিই সর্বেসর্বা। কিন্তু ম্যাচটি ক্রিকেট বলেই, তাকে তবারুকুল ইসলাম যখন জানান বৃষ্টিতে কিভাবে খেলবো, তিনি উত্তর দেন, আম্পায়ার যা বলবেন, তাই সই!

ঘটনা এটুকুই যথেষ্ট বিতর্কিত। বিতর্কের আরো কিঞ্চিৎ এখনো বাকি আছে। বৃষ্টিভেজা কন্ডিশনের পুরো সুবিধা নিয়ে বাড্ডা একতা সংঘ যখন একের পর এক উইকেট তুলে নিচ্ছিলো, স্রোতের ধারার বিপরীতে নবীন সংঘের রেদোয়ান ৩ ছয় আর ১ চারে নবীন সংঘের জয়ের সমীকরণ নামিয়ে আনেন ২৫ বলে ২৮ রানে। বাড্ডার জয়ই যে ম্যাচের শেষ কথা, এরূপ পরিস্থিতিতে সে ম্যাচ আর হয় কি করে? আম্পায়ারদ্বয় ম্যাচের সমাপ্তি ডাকেন (নাকি বাধ্য হন!)। আশ্চর্যজনকভাবে, বৃষ্টি শেষে আকাশে তখন রোদ উঠি উঠি করছে।

স্বাভাবিকভাবেই, মুন্না মিরাজ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খণ্ডান ‘এটা আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত’ বলে। ম্যাচ রেফারি এই ম্যাচের ব্যাপারে কথা বলতে মৌনব্রত নিয়েছেন। আম্পায়ার আর যান কোথায়, সরাসরি অস্বীকারই করে বসেন, ‘বৃষ্টির মাঝে খেলা হয়নি বরং খেলা সময়মতোই বন্ধ হয়েছে।’

এতগুলো লোকের সাক্ষ্য বিসিবির চোখে হয়তোবা তবারুকুল ইসলামকে আবারো ভিলেন-ই বানাবে। তবে তবারুকুল ইসলামের কথার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেবেন, বৃষ্টির মাঝে ফুটবল খেলার স্বাদ পেতে আসা জনাপঁচিশেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। এসে যখন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দেখেন মাঠে হচ্ছে ক্রিকেট ম্যাচ, স্রেফ হতবাক হওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিলো না।

একজন শিক্ষার্থী মোবাইলে ধারণ করা সেই ভিডিওতে বলেছেন, ‘এসে যখন দেখি, মাঠে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে, ভাইদের বলেছি, আপনারা ব্যাট-প্যাড খুলেন, আমাদের সাথে ফুটবল খেলেন।’ এই কন্ডিশনে ক্রিকেট! কিভাবে! আপনাদের লজ্জা হয় না, বিসিবি!

বর্তমান প্রেক্ষিতে, শেষ বাক্যটাই বোধহয় সারকথা, লজ্জা বিসিবি, লজ্জা!

-ক্রিকট্র‍্যাকার অবলম্বনে।

Category : অনুবাদ
Share on your Facebook
Share this post