সাকিব আল হাসানকে পাঁচ প্রশ্ন

অর্ক সাহা
জানুয়ারী ১৬, ২০১৭
 বেসিন রিজার্ভ টেস্টের পঞ্চম দিন সকালে সাকিবের ব্যাখ্যাতীত ওই শট দেখে মনে কিছু প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। বেসিন রিজার্ভ টেস্টের পঞ্চম দিন সকালে সাকিবের ব্যাখ্যাতীত ওই শট দেখে মনে কিছু প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক।

বেসিন রিজার্ভ টেস্টের পঞ্চম দিন সকালে সাকিবের ব্যাখ্যাতীত ওই শট দেখে মনে কিছু প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক।

বোঝাই গেছে, সাকিব ওই শট খেলার বেশ আগে থেকেই মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলেন, তিনি মিচেল স্যান্টনারকে চার্জ করে খেলবেন। এরকম আগে থেকেই ঠিক করে রাখা ছাড়া তাঁর মত সিনিয়র ব্যাটসম্যানের ওরকম শট খেলার আর কোনো ব্যাখ্যাই হতে পারে না।

নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন দিনের সূচনা করেছিলেন একটা শর্ট লেগ, একটা ভেরি শর্ট মিড উইকেট এবং মিড অন নিয়ে। প্রথম চারটি বলের মধ্যে তিনটা বলই দেখেশুনে খেলার পর আর পরের বলে স্যান্টনারের ফ্লাইটেড স্লোয়ার ডেলিভারির লোভ সামলাতে পারেননি সাকিব, আত্মঘাতী এক শটে দিনের শুরুতেই উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেন দৃষ্টিকটুভাবে। হঠাৎ করে যেন ভুলেই গিয়েছিলেন, তাঁর উপর ম্যাচের অনেকটাই নির্ভর করছে!

ফলে চতুর্থদিনের অস্বস্তি পঞ্চম দিন সকাল সকাল বাংলাদেশের গলার ফাঁস হয়ে বসলো। সাকিব ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে একই টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি এবং শূণ্য রান করার 'রেকর্ড' গড়েন, আর বাংলাদেশ গতদিনের সংগ্রহ ৬৬ রানের সাথে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই আরো একটা উইকেট হারিয়ে পড়ে গেলো ঘোর সংকটে।

ম্যাচের পরিস্থিতি, দলের পরিস্থিতি বিচারে তাঁর অদূরদর্শী ওই শটটা বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়।

১. সাকিব কি নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে চাইছিলেন?

দিনের প্রথম ওভারেই স্যান্টনারের বলে উইলিয়ামসনের অপ্রথাগত ফিল্ড সেটআপ দেখেই ধারণা করা যাচ্ছিলো, সাকিবের অতি-আক্রমণাত্মক মনোভাবের জন্য হয়তো বিশেষ কোনো পরিকল্পনা করেই নেমেছেন 'কিউই রাজপুত্র'। নিঃসন্দেহে সাকিবের পূর্ণ অধিকার রয়েছে শুরু থেকে চালিয়ে খেলে কিউইদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার। কিন্তু সেটা আর করতে পারলেন কোথায়? উপরন্তু নিজের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট অনায়াসেই ছুড়ে দিয়ে এসে দলকে ফেলে আসলেন অকূলপাথারে, যেখানে ম্যাচ পরিস্থিতি দাবি করছিলো ধীরেসুস্থে খেলে কিছুটা স্থিতধী ইনিংস বিল্ডআপ।

২. সাকিব কি চাপের মুখে ওরকম শট খেলে ফেলেছিলেন?

হতে পারে। তবে গত ইনিংসেরই ডাবল সেঞ্চুরিয়ান দিনের অষ্টম বলেই চাপে পড়ে গিয়ে অমন শট খেলে ফেলবেন, সেটা 'ইম্পসিবল' না হলেও 'হাইলি ইমপ্রোবাবল' বলা চলে।

৩. তিনি যে দলের সিনিয়র ক্রিকেটার, সেটা কি তাঁর মাথায় ছিল?

গত ইনিংসেই মুশফিকুর রহিমের সাথে ৩৫৯ রানের পার্টনারশিপ করেছেন, স্বাভাবিকভাবেই এ ইনিংসে তেমন পারফরম্যান্সই করতে চাইবেন তিনি। বিশেষ করে মুশফিক ইনজুরিগ্রস্থ হয়ে পড়াতে তাঁর দায়িত্ব বরং আরো বেড়ে যায়। অবশ্যই তাঁর মাথায় এগুলো সবই থাকার কথা, সিনিয়র প্লেয়ার হিসেবে রান করতে না পারলেও অন্তত কিছুটা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করা অন্তত উচিত ছিলো তাঁর। ম্যাচের অমন পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই তিনি দায়িত্বজ্ঞান ভুলে ওরকম শট খেলতে পারেন না।

৪. প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরি কি তাঁকে আত্মতৃপ্তিতে ভুগিয়েছে? কিংবা বেপরোয়াভাবে খেলতে লাইসেন্স দিয়েছে?

এই নিয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের দশ বছর চলছে, এরই মধ্যে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার। এধরণের চিন্তা তো তাঁর মাথাতেই আসার কথা নয়!

একটু পিছনের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, টেস্টের সংকটপূর্ণ অবস্থাতে এর আগেও সাকিব অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন ; একবার গত অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, আর অন্য ঘটনাটি তারও পাঁচ বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

এই স্মৃতি যদি মনে থেকেই থাকে, তবে তাঁর একমাত্র কারণ হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিবের ভূমিকা। দলের সংকটময় অবস্থাতে তাঁর থেকে আমাদের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি।

সাকিব আমাদের গর্ব করার মত অনেক কিছুই দিয়েছেন, অনেক বেশিই দিয়েছেন। কিন্তু সেই পাওয়া দিনদিন আমাদের প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ, ফলে তাঁর সামান্যতম ভুলও যেন আমাদের হজম করতে কষ্ট হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে আমাদের শেষমেশ আর একটাই প্রশ্ন... আবারও যদি এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে ব্যাটিং করতে হয়, তিনি কি আবারও ওই শট খেলবেন?

- লেখাটি ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে প্রকাশিত মোহাম্মদ ইশামের ‘Five questions for Shakib Al Hasan’ লেখাটি থেকে অনুবাদ করা।

Category : অনুবাদ
Share on your Facebook
Share this post