সাব্বির রহমান হওয়ার তাৎপর্য

সঞ্জয় পার্থ
ডিসেম্বর ২০, ২০১৬
  এই টি-টোয়েন্টিই নাকি তাঁর টেস্ট ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই টি-টোয়েন্টিই নাকি তাঁর টেস্ট ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সাব্বির রহমান বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ারের এক সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছেন। মাঠের বাইরের বেশ কিছু ঝামেলায় তাঁকে জড়াতে হয়েছে, ‘গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের’ দায়ে নজিরবিহীনভাবে বিসিবির কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখোমুখিও হতে হয়েছে। যে অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে তাতে যে কারোরই মাথা ঘুরে যাবে, সাব্বিরের মত তরুণ বয়সের যে কারোর জন্য তো সেটা আরও স্বাভাবিক।

আগামী কয়েকটা মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাব্বির রহমানের গতিপথ ঠিক করে দিতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত এইসব ঘটনার পর আবার তাঁকে তাঁর সুনাম পুনরুদ্ধার করতে হবে। আর এর সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে তিনি যেই কাজটা সবচেয়ে ভালো পারেন সেই কাজে ফেরত যাওয়া- আর তা হল খোলা মনে ব্যাটিং করা।

সাব্বিরের ব্যাটিংয়ে যে আগ্রাসী মনোভাবটা আছে সেটাকে বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মানসিকতার পরিবর্তনেরই একটা প্রতীকস্বরূপ বলা যেতে পারে। মূলত টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট নামে পরিচিতি পেলেও সব ধরণের ক্রিকেটেই সাব্বিরের এই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার মানসিকতা মোটাদাগে গোটা বাংলাদেশ দলের মানসিকতাকেই প্রতিনিধিত্ব করে।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বাংলাদেশে ভারতীয় স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখানো শুরু হল, বাংলাদেশি ক্রিকেটারেরা তখন বিশ্বজুড়ে হওয়া ম্যাচগুলোর সম্প্রচার দেখেই তাঁদের খেলায় উন্নতি আনার একটা চেষ্টা করত। কিন্তু সনাৎ জয়াসুরিয়া, বীরেন্দর শেবাগ কিংবা হালের ডেভিড ওয়ার্নারদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেও তাঁদের মত ধারাবাহিকভাবে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে খুব কম বাংলাদেশি ক্রিকেটারকেই দেখা গেছে।

মানসম্মত আন্তর্জাতিক বোলিং অ্যাটাকের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার ধারাটা সর্বপ্রথম এদেশে চালু করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও আফতাব আহমেদ, কিন্তু তাঁদের দুজনেরই ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। তামিম ইকবালও শুরুটা করেছিলেন আগ্রাসী মেজাজেই, কিন্তু দলের সামগ্রিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে তিনি তাঁর ব্যাটিংটাকে বেশ পরিশীলিত করে ফেলেছেন, তামিম এখন পরিণত ব্যাটিং করেন। আর অতিরিক্ত টি-২০ ক্রিকেটের কারণে সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং ক্ষমতাও দিন দিন সংকুচিত হয়ে পরছে।

সাব্বিরের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ অনেকটাই শেবাগ ও ওয়ার্নার ধাঁচের। বাকি অনেক বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সাথে সাব্বিরের এটাই পার্থক্য যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার অনেক আগে থেকেই তাঁর মধ্যে আগ্রাসী ক্রিকেটের বীজটা বপন করা ছিল।

সাব্বির কথা বলেন একধরণের স্বতন্ত্র মূর্ছনায়, কথার মাঝে মাঝেই একটু পর পর একটা করে হাসি। কিন্তু ক্রিজে গিয়েই এই সাব্বির হয়ে যান এক অন্য সাব্বির। বোলারের রান আপের সময় এই সাব্বির নড়াচড়া করেন না, কেবলমাত্র বলের লেন্থ বুঝেই পায়ের নড়চড় করেন। স্কয়ার কাট খেলার সময় এক ঝটকায় তাঁর ব্যাট নিচে নামিয়ে আনেন। পুল করার সময় ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সামনের পা শূন্যে না তুলেই দারুণ পুল খেলতে পারেন। পয়েন্ট থেকে শুরু করে মিড-উইকেট সব জায়গায় খেলতেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ। জোরে হিট করার জন্য তাঁর বড় ব্যাকলিফট এরও প্রয়োজন হয় না। সাব্বিরের মন্ত্র একটাই, বল দেখো, বল মারো।

কিছুদিন আগেই টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন সাব্বির, ৯ ছক্কায় ৬১ বলে করেছেন ১২২ রান। এই ইনিংস সত্ত্বেও রাজশাহী বরিশালকে হারাতে পারেনি, কিন্তু ইনিংসটি অনবদ্য হয়ে থাকবে সাব্বিরের ক্লিন হিটিংয়ের কারণে। এর আগে টেস্ট অভিষেকেই সংগ্রামী এক ইনিংসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ের খুব কাছে। এর আগে বছরের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫৪ বলে ৮০ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন, যেটি আবার বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১ম টি-টোয়েন্টি জয়ের স্বাদও এনে দিয়েছিল।

বিগ হিটিংয়ের নেশা তাঁর ছোটবেলা থেকেই। স্পষ্ট করে বললে ১৯৯৬ থেকে, যখন নাইরোবিতে ৩৭ বলের এক সেঞ্চুরি নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা ক্রিকেট বিশ্বকেই। সাব্বির নিজেই বলছেন, ‘যেহেতু ওই সময়টাতে আমি শহীদ আফ্রিদিকে অনুসরণ করতাম, তাই তখন থেকেই বিগ হিটিংয়ের প্রতি আমার একটা নেশা তৈরি হয়। আফ্রিদির ওই সেঞ্চুরির পর আমিও ভাবতে শুরু করলাম, আমারও এভাবেই ব্যাট করা উচিত। কিন্তু সমস্যাটা ছিল আমি বল মেরে খুব বেশি দূরে নিতে পারতাম না। টেনিস বল ক্রিকেটে আমার বন্ধুরা আমাকে খুব বেশি ব্যাটিং দিত না। তখন থেকেই আমার মধ্যে এক ধরণের পাগলামি শুরু হয়, কিভাবে আমি বিগ হিটার হয়ে উঠতে পারি?’

সমস্যার সমাধান পেতে অবশ্য খুব অপেক্ষা করতে হয়নি সাব্বিরকে। ‘বাসায় মোজার মধ্যে বল ঝুলিয়ে আমি বিগ হিটিংয়ের অনুশীলন শুরু করি। একবার স্কুলে ছয় ছক্কা মেরেছিলাম, তারপর থেকেই আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মাতে শুরু করে।’

ঢাকা থেকে ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের ক্রিকেট পাগল রাজশাহীতে সাব্বিরের বেড়ে উঠা। আরও অনেক ক্রিকেটারের মত সাব্বিরও চিরাচরিত পথই বেছে নিলেন, ক্রিকেট একাডেমীতে যোগদান করলেন। রশীদ বারী ক্যাম্প দিয়ে শুরু, এরপর যান আল-রশীদ ক্রিকেট একাডেমীতে, এখান থেকে আবার উত্তরবঙ্গ ক্রিকেট একাডেমিতে। একাডেমীটি বেশ নামকরা, এই একাডেমীর একটা দল ঢাকা দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগেও খেলে।

সাব্বিরের সেই সময়ের কোচ, জামিলুর রহমান সাদ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ চলাকালে সাব্বিরকে এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে নিয়ে যেতেন বদলি ফিল্ডার হিসেবে ফিল্ডিং করার জন্য। বিপক্ষ দলগুলো বারবার অভিযোগও জানিয়েছে, কিন্তু প্রায় সময়ই সাব্বির এসব অভিযোগের হাত থেকে পার পেয়ে গেছেন।

রাজশাহী ভোলানাথ বি.বি. হিন্দু একাডেমিতে পড়াকালেই সাব্বির প্রথমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেন ইয়াং পেগাসাসের হয়ে। সেই ইয়াং পেগাসাস, যাদের হয়ে খেলেছেন অনেক রাজশাহীর ক্রিকেটার, জুনায়েদ সিদ্দিকী ও ফরহাদ রেজা যাদের মধ্যে অন্যতম।

সাব্বিরের এতদূর উঠে আসার রাস্তাটা কিন্তু মসৃণ ছিল না। নিজের ঘরেই তিনি বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছেন। সাব্বিরের বড় ভাই পুলিশে যোগদান করায় দীর্ঘ সময়ের জন্য তাকে পরিবারের থেকে দূরে থাকতে হত। গত দশকের মাঝামাঝি সময়েও বাংলাদেশে ক্রিকেট জনপ্রিয় ছিল, কিন্তু এতটাও জনপ্রিয় ছিল না যে একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেকে এক কথায় ক্রিকেটে ছেড়ে দেয়া যায়। তার উপর পরিবারের বড় ছেলে পরিবার থেকে দূরে থাকায় সাব্বিরকেও এই অনিশ্চিত জীবনে আসতে দিতে চাচ্ছিল না তাঁর পরিবার।

ছোট থেকেই সাব্বির এত কর্মচঞ্চল ছিলেন যে কোচেরা তাঁকে উইকেটকিপিং, অফস্পিন, পেস বোলিং কোন কিছু করা থেকেই বিরত রাখতে পারতেন না। দুরন্ত সেই সাব্বির শেষ পর্যন্ত থিতু হল ব্যাটিং ও লেগ স্পিনে। বয়সভিত্তিক দলগুলো খুব তাড়াতাড়িই পার হয়ে এলেন তিনি। সাব্বিরের হিটিং সামর্থ্যের প্রথম প্রমাণ পাওয়া গেল ২০১০ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে।

যুব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে সাব্বির ৬ টি ইনিংসে ১০০+ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছিল। কয়েক মাস পরে সাব্বিরের অপরাজিত ১৮ বলে ৩৩ রানের ইনিংসেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মত এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জেতে, সাব্বির নিজে যেই ইনিংসকে তাঁর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলে মানেন।

তিন বছর পর বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ৩ টি টি-টোয়েন্টি খেলে সাব্বির যখন দল থেকে বাদ পরলেন, সাব্বির তখন এক ধরণের আত্মদর্শন ও অনুধাবনের মধ্য দিয়ে গেলেন, যা তাঁকে পরবর্তীতে একজন ধারাবাহিক পারফর্মার হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। সাব্বির বলছিলেন, ‘মাশরাফি ভাই আমাকে নেটে অনেক বল খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সে কারণে গত ৩ বছর ধরে আমি প্রতিদিন নেটে অন্তত ৫০০-৭০০ বল খেলি।’

অনুশীলনের এই কঠোরতা সাব্বিরের জন্য কাজে লেগেছে। ২০১৪ এর শেষ থেকে তিনি বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত হয়েছেন, অভিষেক টেস্ট সিরিজেও তিনি নির্ভরতার সাথে ব্যাট করেছেন।

সাব্বির বলে থাকেন যে তাঁর অফুরান আত্মবিশ্বাসের উৎস হল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। সাব্বির যেভাবে খেলেন সেই ধারাটাকে বাংলাদেশে একপ্রকার অপরাধ হিসেবেই দেখা হয়। একজন ব্যাটসম্যান ছক্কা মারল ঠিক আছে, কিন্তু তার ঠিক পরের বলেই আবার ছক্কা মারা যাবে না। ছক্কা মারার পরিবর্তে ব্যাটসম্যান যদি সেই বলটি ডিফেন্ড করে, তাহলে কোচ ও ক্লাব কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সে ‘ম্যাচিউরিটি’র জন্য বাহবা পাবে। আর সেটা যদি হয় ভরা গ্যালারির সামনে, তাহলে বোনাস হিসেবে জুটবে স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষের প্রশংসাও।

সাব্বির মনে করেন প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই একটা করে পছন্দের ফরম্যাট থাকে, সাব্বিরের নিজের সেটা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। এমনকি এই টি-টোয়েন্টিই নাকি তাঁর টেস্ট ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বললেন, ‘আসল কথা হল একজন খেলোয়াড়ের মানসিকতা কেমন এবং সে কিভাবে তাঁর আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। নিজেকে বিশ্বাস করাটা খুব জরুরী। টি-টোয়েন্টি খেলার সময় আমার মধ্যে সবসময়ই বাড়তি আত্মবিশ্বাস কাজ করে, কারণ আমি এটা পছন্দ করি।

সম্প্রতি আমি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও রান পাওয়া শুরু করেছি কারণ এই ফরম্যাটে ব্যাট করার সময় আমি আমার মানসিকতায় বদল এনেছি। আমার মনে হয় ব্যাটসম্যানদের টেস্টেও আরও বেশি শট খেলা উচিত, কারণ এই ফরম্যাটে ফিল্ড সেটআপের কারণেই এখানে রান করার সুযোগ বেশি থাকে। ব্যাটসম্যান বল ছেড়ে দেয়ার কথা বা ডিফেন্ড করার কথা ভাবতেই পারে, কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাটসম্যানদের তিন ফরম্যাটেই একই মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করা উচিত।

আমি যে দুটো টেস্ট খেলেছি, আত্মবিশ্বাসের সাথেই খেলেছি। আমি আমার নিজের মত করে খেলেছি। বল যেমন ছেড়েছি, তেমনি শটও খেলেছি।’

সাব্বিরের মতে প্রশ্ন উঠলেও তাঁর নিজের পদ্ধতির উপরেই বিশ্বাস রাখা উচিত, ‘এমনকি আমার বন্ধুরাও মাঝে মাঝে আমাকে জিজ্ঞেস করে কেন আমি ডাক মারলাম, বা কেন এত তাড়াতাড়ি বড় শট খেলতে গেলাম। কিন্তু, আমি সবসময়ই আত্মবিশ্বাসী থাকি। আগের ম্যাচে খারাপ খেললে পরের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করার মত আত্মবিশ্বাস আমার আছে। যে ব্যাটসম্যান কঠোর পরিশ্রম করে সে তাঁর ভেতরের বিশ্বাস ও নিজের খেলার ধরণ সম্পর্কে জানে। নিজের চিন্তাধারা সম্পর্কেও সে সবসময় পরিষ্কার থাকে।’

সাব্বিরের এই রান করার ধরণ নবীন খেলোয়াড়দেরও আকৃষ্ট করছে। গত দুই বছর ধরে তিনি দেখিয়ে আসছেন, তাঁর ব্যাটিংটা কেবল দৃষ্টিসুখকরই নয়, কার্যকরীও বটে। এমনকি শাহরিয়ার নাফীস ও মুমিনুল হকের মত সিনিয়র ব্যাটসম্যানেরাও বলেছেন যে সাব্বিরের অ্যাপ্রোচ তাদেরকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভিন্নভাবে ব্যাট করার সাহস দিয়েছে। দুজনকেই কিন্তু গত বিপিএলে বেশ সপ্রতিভ মনে হয়েছে ব্যাট হাতে।

নাফীস যেমন বলছেন, ‘সাব্বিরের ব্যাটিংয়ের কিছু দিক আমি নিজের মধ্যে নিয়েছি। সাব্বির একজন অসাধারণ হিটার। কিন্তু আমি তাঁর মত প্রথম বা দ্বিতীয় বল থেকেই ছক্কা মারা শুরু করতে পারবনা। সাব্বির সুপার ফিট একজন ক্রিকেটার।’

রাজশাহী কিংসের হয়ে এবারের বিপিএলে ১১৮.১৩ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা মুমিনুলও যেমন বলছেন, ‘আমাকে আমার টেকনিকে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে হয়নি। পুরোটাই আসলে মানসিকতা ও বিশ্বাসের জায়গা। আমি গত দুই বছর ধরে কেবল টেস্টই খেলছি, ফলে হঠাৎ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়াটা আমার জন্য একটু কঠিন। কিন্তু এবারের বিপিএল আমাকে সেই আত্মবিশ্বাসটা দিয়েছে। এই আত্মবিশ্বাস আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

নাফীস অবশ্য কিছু মৌলিক পরিবর্তন এনেছেন, উদাহরণস্বরূপ বলা যায় তিনি ভারী ব্যাট ব্যবহার করা শুরু করেছেন। বিপিএলে তিনি ২.১০ পাউন্ডের ব্যাট দিয়ে ব্যাটিং করেছেন, যেখানে তাঁর আগের ব্যাটগুলোর ওজন ছিল ২.০৭ পাউন্ড করে। এছাড়া অফ সিজনে ব্যাট সুইং নিয়েও কাজ করেছেন তিনি, যাতে আরও বেশি বিগ হিট করতে পারেন। বিপিএলে এর আগেও সাফল্য পেয়েছেন নাফীস (২০১৩ বিপিএলে টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১ম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন), কিন্তু এবার যেই স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাট করেছেন, তা খালি চোখেই ধরা পরেছে। এই বিপিএলে মোট ১০ টি ছয় মেরেছেন নাফীস, অথচ এর আগে তাঁর গোটা টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেই ছয় ছিল মাত্র ৫ টি!

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যে দিনে দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সেটা মেনে নিলেন নাফীসও, ‘ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমি কেবল টেস্ট ও ওয়ানডেতেই ফোকাস করেছিলাম, কিন্তু এখন আলোচনায় থাকতে হলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটাও খেলতে জানতে হবে। আমি মনে করি পার্থক্যটা আমার ফিটনেসে। আমি এখন অনেকটা হালকা বোধ করি, ফলে আমার ক্ষিপ্রতাও অনেকটা বেড়েছে। পাওয়ার গেম এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরই স্ট্যান্ডার্ড হয়ে উঠেছে।’

সাব্বির সবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেছেন, এবং প্রত্যেক ক্রিকেটারের জীবনেই অবধারিতভাবে যে খারাপ মৌসুম আসে, সাব্বিরের ক্ষেত্রে সেটা এখনো আসেনি। তাঁর ব্যাটিংয়ের দুর্বলতাও খুব শিগগিরই প্রতিপক্ষরা আবিষ্কার করে ফেলবে, কিন্তু সাব্বির বিশ্বাস করেন তাঁর মেথড অনুযায়ী তিনি খেলে যেতে পারলে তিনি ধারাবাহিকভাবেই পারফর্ম করতে পারবেন।

এছাড়া মাঠের বাইরের বিতর্ক আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক এটাও নিশ্চয়ই চাইবেন না তিনি। একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের কি কি দায়িত্ব থাকে আস্তে আস্তে সেটাও নিশ্চয়ই শিখবেন। কিন্তু বারবার যদি এভাবে মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়িয়ে পরেন, তাহলে সাব্বির তাঁর ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে সুন্দর যে দিক, মানসিক স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যাট করা, সেটাই হারিয়ে ফেলতে পারেন।

- মূল লেখাটি The importance of being Sabbir Rahman শিরোনামে ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে লিখেছেন মোহাম্মদ ইশাম

Category : অনুবাদ
Share this post